পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার বিরোধীদলের সদস্যদের শান্ত হতে ও নিজেদের আসনে বসে বক্তব্য শোনার অনুরোধ জানান।
তবে বিরোধীদলের ক্রমাগত প্রতিবাদের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে জানান, তিনি কাউকে নির্দিষ্ট করে বক্তব্যটি দেননি এবং বিরোধী সদস্যদের কথা বলার সময়েও ব্যাঘাত সৃষ্টি করেননি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে তিনবার ‘আই উইথড্র’ (I withdraw) বলে তার বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে, সরকারের ছয় মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র হট্টগোল হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘শাহবাগ ও পল্টন’ মন্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘সংসদের সৌন্দর্যের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।’
আরও পড়ুন
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এমন প্রশ্ন করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এটা শাহবাগ ও পল্টনে বলা যায়। সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন চলে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পরই সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে উঠে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।’
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হতে সংসদে আসিনি। তিনি শিক্ষকতা করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। সেখানে যার ইচ্ছা ভর্তি হবে, শিখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। তার এমন বক্তব্যে সংসদের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’





