আজ (রোববার, ২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাজেটের আয়তন বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি, জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিলো ৭৮৬ কোটি টাকা। সেই বাজেট ক্রমেই বাড়তে বাড়তে আসন্ন বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাজেটের আয়তন বাড়লেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।’
রাজধানীর পল্টনের ইকোনোমিকস রিপোর্টাস ফোরামের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তেলা মাথায় তেল দেয়া বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট হতে হবে সর্বজনীন।’
আরও পড়ুন:
স্বাধীনতা পরবর্তী ঋণনির্ভর বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঋণ নির্ভর বাজেটে অর্থনীতির গতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাজেট চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকবে। ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে অর্থনীতির চাকা সচল করতে হবে।’
সভায় উপস্থিত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ‘ট্র্যাডিশনাল বাজেট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট তৈরির প্রক্রিয়া হচ্ছে নতুন সরকার কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ বাড়াবে। কিন্তু যারা বাজেট তৈরি করেন, তারা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন না। বাজেট তৈরিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণও অনেক সময় অনুপস্থিতি দেখা যায়।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগে ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতির বাজেট তৈরি থেকে বেরিয়ে এসে সর্বজনীন বাজেট তৈরি করতে হবে। বাজেট তৈরির লক্ষ্য হতে হবে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ব্যতিত আমাদের উন্নত দেশের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি মুক্ত হতে না পারলে বাজেটের আয়তন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতির আয়তনও বৃদ্ধি পাবে। নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তাভাবনা এড়িয়ে গিয়ে বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাজেট তৈরি হলে অর্থনীতিতে গতি আসবে না। তাই দেশিয় সম্পদের অনুসন্ধান ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রাখতে হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের পরিচালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম।




