কমলাপুর রেলস্টেশনে চাপ থাকলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না যাত্রীদের। আজ (শনিবার, ২৯ মার্চ) সকালে বিভিন্ন গন্তব্য সময়মতো ছেড়ে গেছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো। নির্বিঘ্ন যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ঘরমুখো যাত্রীরা।
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কোনোরকম কোলাহল নেই, জ্যাম নেই। খুব শান্তিতে যাচ্ছি।’ আরেকজন বলেন, ‘যাত্রা আগের তুলনায় অনেক শস্তিদায়ক। ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে।’
ট্রেনে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষকে প্রতিবছরই শিকার হতে হয় নানা বিড়ম্বনার। তবে গেল কয়েকদিন চাপ কম থাকায় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা যায়নি। তবে শনিবার ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় বদলে যায় দৃশ্য। পুলিশের হুইসেল, মাইকিং উপেক্ষা করেই শতাধিক যাত্রী চেপে বসেন ট্রেনের ছাদে। পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়ায় বন্ধ হয় ছাদে ভ্রমণ।
এদিকে, প্লাটফর্মে প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি থাকায় টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে ঢুকতে পারছেন না। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থায় মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হয়। সারাদিনে ৭০টি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে যাবে।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নামে আজ সকাল থেকেই। ঈদকেন্দ্রিক যে চিরচেনা যানজট দেখা যায় এ পথে, তা এবার একেবারেই নেই। তবে আশুলিয়া, বাইপাইল, নবীনগর ও জিরানী বাজার থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ভিড় থাকার কথা জানায় যাত্রীরা।
যাত্রীদের বাড়তি চাপের সুযোগে লক্কর ঝক্কর গাড়িরও দেখা মেলে রাস্তায়। আছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।
এদিকে, সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ দেখা যায় রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে। নানা ব্যস্ততায় শেষ সময়ে যাত্রার কথা জানান যাত্রীরা।
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পরিবারের সবার জন্যই ঈদের বাজার করেছি। সবাই একসাথে ঈদ করবো।’ আরেকজন বলেন, ‘বাড়ি যাওয়ার অনুভূতি সবসময়ই বিশেষ কিছু।’
তবে টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় গাড়ির বাড়তি চাপের কারণে তৈরি হওয়া যানজটে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখী যাত্রীরা। সময়মতো গাড়িতে উঠতে পারলেও টার্মিনাল এলাকা পাড় হতে লাগছে বেশি সময়।
ভুক্তভোগী একজন যাত্রী বলেন, ‘আগে ভাড়া নিত ২৩০ টাকা, এখন নিচ্ছে ৩৫০ টাকা।’
বাস কাউন্টারের একজন বলেন, ‘এই বাসগুলো জ্যামের কারণে এখানে আটকে আছে, সেজন্য যাত্রীরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। জ্যাম ক্লিয়ার হলেই বাসগুলো ছেড়ে যাবে।’
এদিকে, বেলা ১১টার সময় গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এবারের ঈদ যাত্রা আনন্দমুখর পরিবেশে হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘চার্টের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া কেউ যদি নেয়, তাহলে অবশ্যই আপনারা বিআরটিএকে জানাবেন। এখানে পুলিশের কন্ট্রোল রুম আছে, আপনারাও দেখছেন যে, এখনো পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়াতেই সবাই যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যাতে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারেন সেজন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’ ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।