জুলাই আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বার বার বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট সংযোগ। কখনো কখনো পুরোপুরি শাটডাউন করা হয় ইন্টারনেট সেবা। জুলাইয়ের শেষের দিকে বিঘ্ন ঘটানো হয় মোবাইল নেটওয়ার্কেও। এসব বিষয়ে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দেন। জুলাইয়ের শেষের দিকে এক পর্যায় সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের মধ্যেই পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পরপরই ৫ আগস্ট বিকেলে সচল হয় ইন্টারনেট সেবা। ইন্টারনেট বন্ধ ও শাটডাউন করার বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বিচারের আওতায় আনার কথা বার বার বলে আসছে।
বুধবার (ডিসেম্বর ১৮) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক তদন্ত দলকে জানান, আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়েছে শেখ হাসিনার নির্দেশে। সে সময় তিনি যা করেছেন সবই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করেছেন বলে জানিয়েছেন পলক।
এদিকে আজ (বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে। এরপর আরেকটি প্রিজনভ্যানে হাজির করা সাবেক এসপি জসিম উদ্দিন মোল্লা, আবদুল্লাহ আল কাফিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্ব তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আট আসামির অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুল্লাহ আল কাফি, শাহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের অনুমতি দেয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দুই মাসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের মামলার সাক্ষীদের টার্গেট করে খুন করার অভিযোগ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর। বিচারে কেউ বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারের বৈধতা নিয়ে আবেদন করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। আর ভাটারা থানার ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।