দেশে এখন

'সময়মতো হাসপাতালে না আসায় ডেঙ্গু ঝুঁকি বাড়ছে'

প্রতিবছর রাজধানীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ডেঙ্গু। এ বছর মৌসুম শুরুর আগেই নগরীতে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বাসাবো সবুজবাগ এলাকার জিরানী খালে ময়লা আবর্জনার আটকে থাকায় পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ হয়ে মশার প্রজনন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মশক নিধন ওষুধ দিলেও বিশেষ কোনো কাজ হচ্ছে না। এদিকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে না আসায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জাসনান বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীতে চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। বছরের শুরুর কয়েক মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করেছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।

বাসাবো সবুজবাগ এলাকার জিরানী খালের এই অংশে ময়লা আবর্জনার কারণে পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেন মশা প্রজননের একটি কারখানা হয়ে উঠেছে।

মশার জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এলাকাবাসী বলছেন মশার ওষুধ ছেটানোতে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই কর্তৃপক্ষের। মাঝে মাঝে ওষুধ দিলেও তাতে বিশেষ কোনো কাজ হচ্ছে না।

স্থানীয় একজন বলেন, 'এই খাল থেকে ভেতরে যাওয়ার ভয়ে অল্প করে ওষুধ দিয়ে বলে যে হয়ে গেছে। তারা চলে যায়। কিন্তু আমরা তো রাতে মশার জ্বালায় থাকতে পারি না। রাতে মশারি আর কয়েল দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।'

ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্ত রঞ্জন দাস মুঠোফোনে জানান, মশক নিধনে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন, চালাচ্ছেন প্রচারাভিযান।

কাউন্সিলর বলেন, 'কোথাও কোনো পানি থাকলে সেখান থেকে তো মমা জন্ম নেবে। আশেপাশে সবকিছু শুকিয়ে রাখতে হবে। প্রতিদিনই সচেতনতামূলক প্রচারণা করা হচ্ছে। প্রচারণাটা বেশ কাজে দিয়েছে।'

এদিকে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেলো ভর্তি রোগীর বেশিরভাগই বাসাবো আর মাদারটেক এলাকার৷ ডেঙ্গু মৌসুম আসার আগেই এসব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত ঠান্ডা-জ্বর আর ডায়রিয়া বেশি কাবু করছে রোগীদের।

বর্তমানে মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী রয়েছে ১৮ জন। এ মাসের ১৩ দিনে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬৫ জন। যেখানে যাত্রাবাড়ি, মাদারটেক, ধোলাইপার, মানিকনগরের রোগীর সংখ্যাই যেন বেশি। প্রায় প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এই হাসপাতালে।

হাসপাতালটির পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান জানান এ বছর ডেঙ্গুর ধরণ পাল্টেছে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা অন্য উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের রক্ত পরীক্ষার পর ধরা পড়ছে ডেঙ্গু। বুঝতে না পারা এবং সঠিক সময়ে হাসপাতালে না আসায় একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরা আছেন মৃত্যুঝুঁকিতে।

ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, 'এই রোগীগুলোর শরীরের অবস্থা খুব অল্প সময়ের মধ্যে খারাপ হয়ে যায়। কারণ তারা বুঝতে পারে না, আর যখন বুঝতে পারে তখন সবাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তারপর তাদের আইসিইউতে নিতে হয়। সময়মতো হাসপাতালে না আসায় তাদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।'

চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৯ জন। এ সময়ের মধ্যে ৩ হাজার ১৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সামনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এমএসআরএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর