বন্যা পরিস্থিতি: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট, হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

বন্যার পানির স্রোত
বন্যার পানির স্রোত | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘ দিন ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় পদ বৃদ্ধি না করায় দুর্যোগ মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর বন্যায় হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। বন্যা প্রতিরোধে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পরামর্শ তাদের।

অতি ভারী বৃষ্টি আর বন্যায় ভাসছে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল। ঘরবাড়ি-সড়ক-সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হবার পাশাপাশি ভেসে গেছে মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে ফসল। গত সাতদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের অন্তত ২০টি জেলা এখন বন্যা কবলিত।

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শুধু বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণেই দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি মানুষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক হিসাব এটি।

দুর্যোগ প্রবণ এ অঞ্চলে ঝড়-বন্যা-জলোচ্ছ্বাস সাধারণ হলেও আগাম সতর্কতায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। আবার দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতি নিরূপণ আর ত্রাণ বিতরণেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়। কিন্তু এবারের বন্যায় আগাম সতর্কতা ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য সব বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানে অবশিষ্ট বলতে আর কিছু নেই। মানুষ গরু-ছাগল নিয়ে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আরও পড়ুন:

মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক শূন্য পদের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে জেলাগুলোতে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। তবে এই ব্যাপারে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জানান, এবার বন্যা শেষ হলে সব কিছু ঢেলে সাজানো হবে

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুন আখতার বলেন, ‘এই দুর্যোগটা আল্লাহর রহমতে যখন আমরা ওইটা থেকে পরিত্রাণ পাবো, তখন সেই পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা ঠিক করবো যে আসলে তাদের কী প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিগত সময়ে সঠিক ও যুগোপযোগী পরিকল্পনার অভাবেই ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে মনে করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। শুধু ত্রাণ সহায়তা নয়, বন্যা প্রতিরোধে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নও জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড.আইনুন নিশাত বলেন, ‘রাস্তাগুলোর মধ্যে সাফিসিয়েন্ট কালভার্ট করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর পাড়ে প্রচুর বাঁধ বানিয়েছে যেগুলো সামান্য চাপেই ভেঙে যায়। ভেতরের বাইরের পানি আপনি ঢুকতে দিলেন না বাঁধ দিয়ে, কিন্তু ভেতরের পানি নিষ্কাশনের কী ব্যবস্থা করেছেন?’

ভবিষ্যতে দুর্যোগ পরিস্থিতি প্রতিরোধে টেকসই প্রস্তুতিই কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, ‘জলোচ্ছ্বাসের যে দুর্যোগ যেটা অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত থাকবে, তার আগে স্থানীয় সরকারগুলোকে আমার মেরামত করা দরকার।’

এজন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।

ইএ