স্থানীয় নির্বাচন করতে প্রস্তুত ইসি, আগস্টে তফসিল

ভোটগ্রহণ চলছে
ভোটগ্রহণ চলছে | ছবি : এখন টিভি
0

অবশেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অপেক্ষার পালা শেষ হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ঘোষণা হতে যাচ্ছে তফসিল। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় আচরণবিধিতে আসতে যাচ্ছে বেশকিছু পরিবর্তন। নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে কমিশন শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে চায়। ভোটে সহিংসতা এড়াতে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি। নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলি মনে করেন, ভোটে সহিংসতা এড়াতে আচরণবিধির বিষয়ে ইসিকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন।

সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নাগরিক সেবা দেশের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা থাকলেও বর্তমানে বেশিরভাগেরই নাজুক অবস্থা। নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সময়মত মিলছে না নাগরিক সনদ, বয়স্ক-বিধবা ভাতা। একই সঙ্গে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

একই অবস্থা স্থানীয় সরকার পর্যায়ের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এমন অবস্থায় বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ ইউপি নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শুরুতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। সরকারের গ্রিন সিগন্যালের পর পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

এবার স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দলীয় প্রতীক থাকছে না। নির্বাচনী আচরণবিধিতে বেশকিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তে মাঠ পর্যায়ে চিঠি দেয়া নির্দেশনা দেয়ার পরিকল্পনা ইসির। সব ঠিক থাকলে আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা। ৩১ জুলাই পর্যন্ত বয়স ১৮ বছর হলেই যেকেউ ভোট দিতে পারবেন।

ভোটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অংশ নেয়ার প্রশ্নে সচিব জানান, এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থিতার শর্ত পূরণ করলে যেকেউ প্রার্থী হতে পারবেন।

আরও পড়ুন:

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজটা হচ্ছে যে ভোটটাকে করে দেয়া। ভোট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, আমরা করব। এখন কে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি, যিনি প্রার্থিতার শর্ত পূরণ করেন। দ্যাটস অল। আমরা খারাপ অভিজ্ঞতাটা আমাকে কষ্ট দেয়। আমি কষ্টদায়ক জিনিসটাকে কেন মনে রাখব?’

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে কমিশনে নিরপেক্ষ এবং ভোটে সহিংসতা এড়াতে ইসি কতটুকু সচেতন। এমন প্রশ্নে অনেকটা কৌশলী জবাব কমিশন সচিবের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থানটা আমি বলেছি যে আমাদের প্রস্তুতিটা। এর প্রশ্নের উত্তরটা আপনার সময়েই পাবেন। আমার অনুমান যেটা সেটা হচ্ছে যে আমরা প্রভাবমুক্ত—এটা আমি একটু আগেই বলেছি। আপনি ভোটের অংশগ্রহণ করবেন, ভোট দিবেন হাসিমুখে, বাসায় ফিরে যাবেন।’

নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের শঙ্কা কম নয়। তাই সহিংসতা এড়াতে আচরণবিধির বিষয়ে ইসিকে কঠোর হওয়ার আহ্বান এই বিশ্লেষকের।

নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একদম মূল জায়গাটা ঠিক রুট লেভেলের মাঠের অবস্থানের ওপর ডিপেন্ড করে কিন্তু। কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রকম সহিংসতা হোক সরকার কোনদিনই তা চাইবে না। কারণ এটি সরকারের ইমেজের ব্যাপার আছে।’

এফএস