কাতানিয়া বিমানবন্দর থেকে ৩০ কিলোমিটার (২০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত এতনার তৎপরতায় প্রায়ই ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। তবে এবারের অচলাবস্থা ২০০২ সালের পর সবচেয়ে দীর্ঘ। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিকস অ্যান্ড ভলকানোলজির এতনা অবজারভেটরির গবেষক বরিস বেনকে বলেন, ‘উড়োজাহাজের জন্য আগ্নেয়গিরির ছাই বড় ঝুঁকি হতে পারে। এটি ইঞ্জিনে ঢুকে সেগুলো অচল করে দিতে পারে। এই কারণেই যখনই আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই বের হয়, সবাই উড়োজাহাজের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে পড়ে।’
ইউরোপের সবচেয়ে বড় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত এতনার সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা টানা ছাই নির্গমনের কারণে অস্বাভাবিক। উত্তরের বাতাসে এই আগ্নেয় ছাইয়ের কিছু অংশ মালটা ও উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বেনকে বলেন, ‘গত কয়েক দশকে অনেক ছোট বিরতি ও তীব্র অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। তবে এবারের ঘটনা ভিন্ন। কারণ, এতনার চূড়া থেকে ছাই নির্গমন অনেক বেশি ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে।’
ইতালীয় দৈনিক ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরার’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প কেন্দ্রে ঘোরাতে হয়েছে, যা ট্যাক্সি ভাড়া ও গাড়ি ভাড়ার হার বাড়িয়ে দিয়েছে। বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর ভোক্তা সংগঠন ‘কোদাকনস’ ইতালির প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএসি জানিয়েছে, ৬ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে কাতানিয়ায় নামার কথা থাকা প্রায় ২ হাজার ফ্লাইটের মধ্যে ৩৬ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। ৬০০-এর বেশি ফ্লাইটকে পালেরমো, ত্রাপানি, কমিসো ও লামেৎসিয়া তেরমেতে ঘোরানো হয়েছে। সপ্তাহান্তে অল্প সময়ের জন্য প্রস্থান কার্যক্রম আবারও শুরু হলেও সোমবার আসা-যাওয়া দুই ধরনের ফ্লাইটের জন্যই বিমানবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কমিসো বিমানবন্দরও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। ভ্রমণের চাপ কমাতে ইতালীয় ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেনিতালিয়া পালেরমো-মেসিনা-কাতানিয়া লাইনে ছয়টি নতুন সেবা যুক্ত করেছে।
মাউন্ট এতনার এই ভোগান্তির প্রতিক্রিয়ায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের অনুরোধ জানিয়েছে ইতালির ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটরদের ফেডারেশন। এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রীদের সহায়তা কীভাবে সামলেছে, সে বিষয়ে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ফিয়াভেতের প্রেসিডেন্ট জিয়ান মারিও পিলিয়েরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অপারেটররা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে সহায়তা, বাতিলকরণ ও বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কিন্তু কাঠামোগত ঘাটতি এবং অন্যের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তারা বহন করতে পারে না।’





