বৃষ্টি নামলেই থমকে যায় শহর। বর্ষা যেন রাজধানীবাসীর জন্য শুধু স্বস্তির নয়, সঙ্গে নিয়ে আসে পুরনো এক দুর্ভোগের গল্প— জলাবদ্ধতা।
পুরো নগরে যানজট আর যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। মানচিত্রের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে ঠিকানাও, তবে বদলায়নি মানুষের জীবনমান। সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘বৃষ্টি আইলে সমস্যার মধ্যে পরি, পানি পানি জমে যায়।’
গাড়ি চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই ভাঙ্গাচোরা রোড, গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা। পানি বাইধা রইছে। গাড়ি স্লো চলে। এই ভাঙ্গাচোরার জন্য গাড়ি পল্টি-মল্টি খায়, পইড়া-মইড়া যায়।’
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে খাল উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটির বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে নির্দিষ্ট খাত উল্লেখ না থাকলেও, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে প্রায় ২ হাজার ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই খাতের আওতায় ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তর সিটিতে দৃশ্যমান জলাবদ্ধতা নেই উল্লেখ করে প্রশাসক জানান, জমে থাকা পানি নিরসনে প্রায় তিন হাজারের অধিক কিইআর-টিম কাজ করছে। সেই সঙ্গে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে চালানো হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জলাবদ্ধতা একদিনেই এটা আমি নিরসন করতে পারব না। কিন্তু যাতে পানি জমে না থাকে সেই ব্যবস্থা করার জন্য আমাদের এটা প্রস্তুতি আছে। সেই কারণে এবার অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা হলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দৃশ্যমান কিছুই হয় নাই।’
আর মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয় উল্লেখ করে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক জানান, খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘যে বৃষ্টি হচ্ছে, ওপেন পানিগুলো নিষ্কাশনে যে ওয়েটা, পানিটা দুইটা জায়গায় নিতে হবে। একটা হয় বুড়িগঙ্গায় নিতে হবে, আরেকটা না শীতলক্ষ্যায় নিতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু এই দুইটা জায়গায় নেয়ার মতো আমার কোনো ব্যবস্থা সেইভাবে নেই।’
আরও পড়ুন:
বাস্তবিকভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান নগর পরিকল্পনাবিদদের। একইসঙ্গে, কৃত্রিম ব্যবস্থাপনা তৈরিতে প্রাকৃতিক ড্রেনেজ নষ্ট না করে সিটি করপোরেশনকে সমন্বিত পরিকল্পনা কথাও জানান।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘অনেক এলাকাতে আসলে যে রাস্তাগুলো যে বানানো হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের যে ন্যাচারাল যে আমাদের যে ড্রেন আউট হওয়ার যে প্রক্রিয়া, তার কোনো মিল নাই। যা এখন অবশিষ্ট আছে সেগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ক্যাপাসিটি আমরা নিশ্চিত করতে পারি এবং সেটা যেন পুনরায় দখল না হয়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় যে উদ্যোগ; পাশাপাশি এলাকাবাসী যেন এই খাল এবং অন্যান্য যে জলাধার আছে, সেগুলোকে যেন কমিউনিটি প্রপার্টি মনে করে, এজন্য কমিউনিটিতে একটা মডেল তৈরি করতে হবে।’
সিটি করপোরেশন বলছে, আগামী বর্ষাকে সামনে রেখে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হবে দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান। আর এই বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে জোর দিচ্ছেন তারা। আর নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতাও।



