আজ (সোমবার, ২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটি ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের নবনির্মিত ৬তলা ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
১১তলা ভিতবিশিষ্ট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতালের প্রথম পর্যায়ের ৬তলা ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা। তবে এখনও জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমি দেখেছি এখানে অনেক সমস্যা। এখানে ডাক্তারের সংকট, যন্ত্রপাতির সংকট। বিশেষ করে এখানে জনবল-কর্মচারীর সংকট। এখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিষয় নিয়ে আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, রাঙামাটিসহ তিনটি পার্বত্য জেলায় স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন এবং সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিলো, যেটা আসলে পূরণ হতে যাচ্ছে। সেজন্য আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমার অভিবাদন জানাচ্ছি।’
এসময় তিনি রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে শিক্ষক ও বিভিন্ন সংকট; জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি, শয্যা সংকট নিরসন ও নৌঅ্যাম্বুলেন্স চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন:
সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, ‘রাঙামাটির স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। এর মধ্য দিয়ে রাঙামাটি থেকে কোনো রোগীকে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় পাঠানোর প্রয়োজন পড়বে না।’
তিনি বলেন, ‘রাঙামাটিবাসীকে আমরা একটা সুন্দর স্বাস্থ্যসেবা দিতে চাই। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন হলেও এখনো জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না।’
রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. প্রীতি প্রসুন বড়ুয়া, রাঙামাটি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন, গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শওকত আকবর খান প্রমুখ।
১৯৮৪ সালে চালু হওয়া ৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি ১৯৮৬ সালে উন্নীত করা হয় ১০০ শয্যায়। শয্যা ও লোকবল সংকটে জেলার ৬ লাখের বেশি মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। সরকারি উদ্যোগে সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের প্রথম পর্যায়ের ৬ তলা ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হলেও নানা জটিলতায় কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।
১১তলা ভিতবিশিষ্ট ৬তলা ভবনটিতে চারটি লিফট ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া নিচতলায় জরুরি বিভাগ, ফার্মেসি, স্টোর রুম, টিকিট কাউন্টার ও দ্বিতীয় তলায় ২০ শয্যার আইসিইউ ও আইসোলেশন কক্ষ রয়েছে। তৃতীয় তলায় প্যাথোলজিক্যাল ল্যাব, এক্স-রে, এমআরআই ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট থাকছে। চতুর্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি), পঞ্চম তলায় পোস্ট অপারেটিভ ইউনিট এবং ষষ্ঠ তলায় রোগীদের ওয়ার্ড ও কেবিন থাকবে।





