রাজধানীতে ইরান দূতাবাসে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, হ‘রমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে থাকা ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ জাহাজগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ছয়টি জাহাজের ব্যাপারে আমরা তেহরানকে জানিয়েছি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এই জাহাজগুলোকে সহায়তা করার অনুমোদন দিয়েছে। জাহাজগুলোর স্পেসিফিকেশন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের কাছে না আসার কারণে আমরা শনাক্ত করতে পারিনি।’
দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে পেট্রোল পাম্পে যে দীর্ঘ লাইন, এগুলো সচিত্র রিপোর্ট আমরা তেহরানে দিয়েছি এবং বলেছি, আমাদের এখানকার ভাই, আমাদের বন্ধুরা সমস্যায় আছে। তাদের যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয়। সব ধরনের সহযোগিতা যেন করা হয়।’
যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি নিয়মগুলোর অবশ্যই পরিবর্তন হবে জানিয়ে জলিল রহীমি বলেন, ইনোসেন্স প্যাসেজের নিয়ম অনুসারে কোনো ধরনের জাহাজ ইরানের অনুমতি ছাড়া এই প্যাসেজ দিয়ে যেতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের সংসদ এবং সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। আমরা অবশ্যই হরমুজ প্রণালিতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করব।
আজকের খবর:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিন্দা জানায়নি। এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার প্রত্যাশা করছে ইরান।’
এ সময় তিনি জানান, ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। তবে এ যুদ্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটা নিয়ে তাদের কষ্টের জায়গা আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি শর্তসহ ইরানকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এটা ছিল তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা যা অর্জন করতে পারেনি, এভাবে তারা অর্জন করতে চাচ্ছে। আমেরিকার সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তাদের ১৫টি শর্তের ব্যাপারে আমরা কোনো জবাব দেইনি।’
জলিল রহীমি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা এবং ইসরাইলের অস্ত্রের জোর থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আক্রমণ করে। যখন অস্ত্রের ঘাটতি হয়, তখন তারা শান্তির কথা বলে। এটা হতে পারে না— তাদের বিপদের সময় তারা যুদ্ধ বন্ধের কথা বলবে আর আমাদের মেনে নিতে হবে।’





