কৃষিতে নতুন দিগন্ত ‘কৃষক কার্ড’: ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পাবেন ১০ সুবিধা

স্মার্ট কৃষক কার্ড কী
স্মার্ট কৃষক কার্ড কী | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ (Pohela Boishakh 2026) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ (Farmer Card/Krishak Card)। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী ৪ বছরে দেশের ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হবে। মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরাও (Fishermen and Dairy Farmers) এই কার্ডের আওতাভুক্ত থাকবেন। প্রাথমিকভাবে এই মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।

প্রকল্পের মূল তথ্যসমূহ

বিবরণ (Description) উপাত্ত (Data)
উদ্বোধনের তারিখ ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ (Pohela Boishakh)
মোট সুবিধাভোগী ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পরিবার
প্রকল্পের বাজেট ৬৮১ কোটি টাকা (৪ বছর মেয়াদী)

কৃষক কার্ডে ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা (10 Benefits of Krishak Card)

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) তথ্য অনুযায়ী, এই একটি কার্ডের মাধ্যমেই কৃষকরা কাঠামোগত বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন। কার্ডধারীরা যে সুবিধাগুলো পাবেন:

  • ১. ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ (Agriculture inputs at fair price)।
  • ২. সরাসরি সরকারি ভর্তুকি (Government subsidy)।
  • ৩. কৃষি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা (Agricultural incentives)।
  • ৪. সুলভ মূল্যে সেচ সুবিধা (Irrigation facilities)।
  • ৫. সহজ শর্তে কৃষিঋণ (Easy agricultural loans)।
  • ৬. শস্য ও কৃষি বিমা সুবিধা (Agricultural insurance)।
  • ৭. সরাসরি সরকারি গুদামে পণ্য বিক্রয় (Selling crops at fair price)।
  • ৮. আধুনিক কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ (Agricultural training)।
  • ৯. আবহাওয়ার আগাম তথ্য (Weather updates)।
  • ১০. রোগবালাই দমনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ (Pest control consultancy)।

আরও পড়ুন:

শ্রেণিবিভাগ ও ডিজিটাল ডেটাবেজ (Classification and Digital Database)

সরকার কৃষকদের আয় ও জমির মালিকানা অনুযায়ী ৫টি শ্রেণিতে (৫ Categories of farmers) ভাগ করছে। এগুলো হলো— ভূমিহীন (Landless), প্রান্তিক (Marginal), ক্ষুদ্র (Small), মাঝারি (Medium) ও সচ্ছল কৃষক। প্রতিটি কার্ডে কৃষকের ৪৫ ধরনের তথ্য সম্বলিত একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ (Digital Database of Farmers) থাকবে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরাই কেবল সরকারি সুবিধা পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।

সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট ও ঋণ মওকুফ (Bank account and Loan waiver)

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষকের জন্য সোনালী ব্যাংকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (Bank account for farmers) খোলা হবে। কৃষি ভর্তুকির টাকা সরাসরি এই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। উল্লেখ্য, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ (Agricultural loan waiver up to 10,000 BDT) করেছে সরকার, যার ফলে উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা (Challenges and Prospects)

অর্থনীতিবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সঠিক কৃষক শনাক্তকরণকে বড় চ্যালেঞ্জ (Challenges in identifying real farmers) হিসেবে দেখছেন। সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, "সঠিক ডিজিটাল ডেটাবেজ ও স্বচ্ছ তদারকি নিশ্চিত করতে পারলে এটি কৃষকদের মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।"

আরও পড়ুন:

এসআর