বিষয় (Topic) বিস্তারিত তথ্য (Full Details) উদ্যোগের নাম কৃষক কার্ড বা স্মার্ট কৃষক কার্ড (Krishak Card / Smart Krishak Card) মূল লক্ষ্য দেশের সব কৃষককে একটি ডিজিটাল ডাটাবেজে আনা এবং সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিক ধাপ অঞ্চলভেদে 'পাইলট প্রকল্প' (Pilot Project) হিসেবে শুরু করে পরে সারাদেশে চালু। সুবিধাভোগী ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, বর্গাচাষী ও বড় কৃষকসহ দেশের সকল প্রকৃত কৃষক। কার্ডের প্রধান সুবিধা কৃষি ভর্তুকি, সার-বীজ প্রাপ্তি, কৃষি ঋণ ও নগদ প্রণোদনা সরাসরি লাভ করা। আবেদন প্রক্রিয়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে অথবা নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধন। প্রয়োজনীয় তথ্য এনআইডি (NID) কার্ড, ছবি, মোবাইল নম্বর এবং জমির তথ্যাদি। বিশেষত্ব মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং সরাসরি ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা। তদারকি প্রধানমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ।
আরও পড়ুন:
স্মার্ট কৃষক কার্ড কী
স্মার্ট কৃষক কার্ড হলো বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রকৃত কৃষকের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি ইলেকট্রনিক ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। সহজ কথায়, এটি টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড বা স্মার্ট এনআইডির মতোই একটি পরিচয়পত্র, যা বিশেষভাবে কৃষি সেবাকে ডিজিটাল করার জন্য তৈরি।
কেন কৃষক কার্ড প্রয়োজন?
- স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা: প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে অন্য কেউ যেন সরকারি অনুদান নিতে না পারে।
- সরাসরি যোগাযোগ: রাষ্ট্রের সাথে কৃষকের সরাসরি ডিজিটাল সংযোগ তৈরি করা।
- সহজ সেবা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত চিহ্নিত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
বিষয় বিস্তারিত ডিজিটাল পরিচয় এতে কৃষকের নাম, জমির পরিমাণ, ফসলের ধরণ ও মাটির গুণাগুণ সম্বলিত একটি QR কোড থাকে। সরাসরি ভর্তুকি সরকার প্রদত্ত সার, বীজ ও নগদ প্রণোদনা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে। কৃষি ঋণ সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে এবং দ্রুত কৃষি ঋণ পাওয়া সম্ভব হবে। মাটির স্বাস্থ্য কার্ড কৃষক তার জমির মাটির জন্য কোন সার কতটুকু প্রয়োজন, তা এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে জানতে পারবেন।
স্মার্ট কৃষক কার্ড ও পাইলট প্রকল্প (Smart Krishak Card & Pilot Project)
মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমানের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে পাইলট প্রকল্প (Pilot Project) হিসেবে শুরু করা হবে। পরবর্তীতে এর সফলতা বিবেচনা করে সারাদেশে স্মার্ট কৃষক কার্ড (Smart Krishak Card) বিতরণ করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সব কৃষককে এই ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় নিয়ে আসা।
কী কী সুবিধা পাবেন কৃষকরা? (Benefits for Farmers)
এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরকারি সেবা ও প্রণোদনা সরাসরি পাবেন। মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কার্ডটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে:
- সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা (Direct Banking Benefits) পাওয়া যায়।
- কৃষি ভর্তুকি ও সার-বীজ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছায়।
- কোনো মধ্যস্বত্বভোগী (Middlemen) বা লিকেজ যেন সুযোগ না পায়।
- রাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষকের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়।
কবে নাগাদ বিতরণ শুরু হবে? (Distribution Timeline)
কার্ড বিতরণের সঠিক সময় এখনই নির্দিষ্ট না করলেও মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যত দ্রুত সম্ভব এই কার্যক্রম শুরু করার। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে কাজ করছে।
আরও পড়ুন:
বিষয় বিস্তারিত তথ্য কারা আবেদন করতে পারবেন? দেশের সকল প্রকৃত ক্ষুদ্র, প্রান্তিক এবং বড় কৃষক। যাদের নিজস্ব জমি আছে অথবা যারা অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করেন। কোথায় আবেদন করবেন? সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কৃষি ব্লক অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে অথবা নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে। বাছাই প্রক্রিয়া উপজেলা কৃষি অফিসারের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। কার্ডের সুবিধা সরাসরি নগদ প্রণোদনা, কৃষি ঋণ, ভর্তুকি মূল্যে সার-বীজ এবং কৃষি যন্ত্রপাতির বিশেষ সুবিধা।
আবেদন করতে যা যা লাগবে (প্রয়োজনীয় কাগজপত্র)
স্মার্ট কৃষক কার্ডের জন্য নিবন্ধনের সময় সাধারণত নিচের তথ্য ও দলিলগুলো প্রয়োজন হয়:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর আসল এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি: সম্প্রতি তোলা ২ কপি রঙিন ছবি।
- মোবাইল নম্বর: কৃষকের নিজস্ব সচল একটি মোবাইল নম্বর (যা দিয়ে ব্যাংকিং সেবা নেওয়া সম্ভব)।
- জমির তথ্য: জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর বা পর্চার কপি (নিজস্ব জমি থাকলে)।
- বর্গাচাষীদের জন্য: যারা অন্যের জমি চাষ করেন, তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় চেয়ারম্যান বা মেম্বারের প্রত্যয়নপত্র।
- ব্যাংক একাউন্ট: কৃষকের নামে থাকা ১০ টাকার ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট নম্বর।
কৃষক কার্ড পাওয়ার ধাপসমূহ (Step-by-Step Process)
সরকার প্রধানত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ডটি পৌঁছে দেবে। আপনার যা করতে হবে:
১. উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ: আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তিনিই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন।
২. নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন: সরকার যখন আপনার এলাকায় 'পাইলট প্রজেক্ট' বা মূল প্রকল্প শুরু করবে, তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে।
৩. তথ্য যাচাই (Verification): আপনার দেওয়া তথ্য (জমির পরিমাণ, ফসলের ধরণ ইত্যাদি) কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।
৪. ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি: আপনার এনআইডি (NID) এবং মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।
৫. কার্ড বিতরণ: যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে এই স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুন:
কার্যক্রমের ধাপ করণীয় প্রাথমিক যোগাযোগ ইউনিয়ন কৃষি ব্লক অফিস বা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে নাম তালিকাভুক্ত করা। কাগজপত্র জমা এনআইডি কার্ড, ছবি এবং জমির মালিকানা বা বর্গাচাষের প্রমাণপত্র দাখিল করা। মোবাইল নম্বর লিংকিং আপনার এনআইডি দিয়ে কেনা সিম বা সচল মোবাইল নম্বরটি সংযুক্ত করা। কার্ড সংগ্রহ যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্মার্ট কার্ডটি সংগ্রহ করা।
মনে রাখা জরুরি: যেহেতু মন্ত্রী জানিয়েছেন এটি এখন 'পাইলট প্রকল্প' হিসেবে শুরু হচ্ছে, তাই আপনার এলাকায় কাজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা কৃষি অফিসে খোঁজ রাখা জরুরি। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের কাছে টাকা দেবেন না, কারণ এই কার্ডটি পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সরকারি এবং এতে সরাসরি কৃষকের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন:
কৃষক কার্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর-FAQ
প্রশ্ন: কৃষক কার্ড বা স্মার্ট কৃষক কার্ড আসলে কী?
উত্তর: এটি টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি ডিজিটাল কার্ড, যার মাধ্যমে সরকার প্রকৃত কৃষকদের চিনে সরাসরি বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান করবে।
প্রশ্ন: এই কার্ড পেতে আবেদনের যোগ্যতা কী?
উত্তর: বাংলাদেশের যেকোনো প্রকৃত কৃষক (ক্ষুদ্র, প্রান্তিক বা বড় কৃষক) এবং যারা অন্যের জমি বর্গা চাষ করেন, তারা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন: কৃষক কার্ড পেতে কোথায় আবেদন করতে হবে?
উত্তর: আপনার এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর কার্যালয়ে অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যোগাযোগ করে আবেদন করা যাবে। এছাড়া সরকারি পোর্টাল চালু হলে অনলাইনেও আবেদন করা যাবে।
প্রশ্ন: আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?
উত্তর: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর এবং জমির মালিকানা বা বর্গা চাষের প্রমাণপত্র।
প্রশ্ন: বর্গা চাষীরা কি এই কার্ড পাবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, বর্গা চাষীরাও এই কার্ড পাবেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (চেয়ারম্যান/মেম্বার) বা কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন: স্মার্ট কৃষক কার্ডের প্রধান সুবিধাগুলো কী কী?
উত্তর: কার্ডধারী কৃষকরা সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি মূল্যে সার-বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণ পাবেন।
প্রশ্ন: এই কার্ডের মাধ্যমে কি সরাসরি টাকা পাওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, কার্ডের সাথে কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) যুক্ত থাকবে, ফলে সরকারি অনুদান সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।
প্রশ্ন: পাইলট প্রকল্প (Pilot Project) বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পাইলট প্রকল্প মানে হলো প্রাথমিকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। সেখানে সফল হলে পরে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কি কার্ডের জন্য জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে সরকারি সুবিধা সরাসরি গ্রহণ করা অনেক সহজ হয়।
প্রশ্ন: কৃষক কার্ড করতে কি কোনো টাকা লাগে?
উত্তর: না, কৃষক কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকার প্রদান করবে। কার্ডের জন্য কাউকে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
প্রশ্ন: একই পরিবারের একাধিক সদস্য কি কার্ড পাবেন?
উত্তর: সাধারণত একটি পরিবার থেকে একজন কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে জমির মালিকানা ও পরিবারের ধরণ অনুযায়ী নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন করার ওয়েবসাইট কোনটি?
উত্তর: বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত পোর্টালে ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। পাইলট প্রজেক্ট শুরুর সাথে সাথে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সাইটে লিঙ্ক প্রকাশ করা হবে।
প্রশ্ন: কার্ড পেতে মোবাইল নম্বর কেন জরুরি?
উত্তর: কারণ কার্ডের প্রতিটি আপডেট, ওটিপি (OTP) এবং নগদ সহায়তার তথ্য আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।
প্রশ্ন: যাদের এনআইডি (NID) নেই তারা কি আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: না, স্মার্ট কৃষক কার্ড একটি ডিজিটাল প্রক্রিয়া হওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: কার্ড হারিয়ে গেলে কী করণীয়?
উত্তর: কার্ড হারিয়ে গেলে স্থানীয় কৃষি অফিস বা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পুনরায় আবেদন বা ডুপ্লিকেট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।





