ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন বাসে জিরো টলারেন্স, তবু পরিবহন সংকটের শঙ্কা

মহাসড়ক ও সড়কে নির্মাণ কাজ চলছে
মহাসড়ক ও সড়কে নির্মাণ কাজ চলছে | ছবি: এখন টিভি
0

ঈদের সময়, ফিটনেসবিহীন বাস রঙ করে সড়কে চলাচল থামাতে জিরো টলারেন্স নীতি দেখানোর কথা বলছে সরকার। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং সড়কের পাশে অস্থায়ী বাজার উচ্ছেদেও সরকার কঠোর হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এদিকে, অপ্রতুল পরিবহন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় সংকট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্ধেক যাত্রী নিয়েই একেকটি বাস ছুটে চলেছে গন্তব্যে। গাজীপুর চন্দ্রার এই মোড়ে যে কয়টা বাস এসে দাঁড়াচ্ছে, তাদেরও যাত্রীর জন্য হাহাকার।

ঈদের দুএক সপ্তাহ আগে মহাসড়কের এমন চিত্র থাকলেও ঈদের আগের ৩ থেকে ৪ দিন অবশ্য এখানে একেবারেই উল্টো চিত্র। উত্তরবঙ্গের ২০ থেকে ২২টি জেলার মানুষ ঘরে ফেরেন এই সড়ক দিয়েই। অথচ টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প এখনো অর্ধেক শেষ হয়নি। তবে কি ঈদযাত্রায় অপেক্ষা করছে তীব্র যানজট?

উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। ঢাকা ছাড়ার শুরুতেই মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে এবারও ঘণ্টা দুয়েকের জটে পড়ার পুরনো শঙ্কা আছেই।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়েই যানবাহনের ধীর গতি দেখা দেয়। শঙ্কা ভর করেছে, ঈদযাত্রায় গার্মেন্টস শ্রমিকসহ অন্যান্য যাত্রীর চাপে যানজট থাকবে এবারও। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি না থাকায় এ পথেও দুর্ভোগের দুশ্চিন্তা।

জায়গায় জায়গায় সংস্কার পূর্ণরূপে না থাকা সরকারকে কিছুটা হলেও ভাবাচ্ছে বলে সরল স্বীকারোক্তি সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন—ঈদের সময় সড়কে লক্করঝক্কর বাস চলাচল থামাতে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি দেখাবে সরকার।

আরও পড়ুন:

সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমরা বলেছি গ্যারেজগুলোতেও অভিযান চালাতে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেন কোনোভাবে রং করে রাস্তায় নামতে না পারে তা দেখো হবে। রাস্তায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হতে পারে, এ ব্যাপারগুলো আমরা হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং ডিসি তাদের অনলাইনের মাধ্যমে আমরা অবহিত করেছি। বিভিন্ন জায়গায় সংস্কারের কাজ চলছে, আমরা বলেছি আপাতত রাস্তা থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য।’

সড়ক প্রস্তুতির চেয়ে যানবাহনের অপ্রতুলতাকে বড় সংকট মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। সমাধান হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলোর যানবাহন যাত্রী বহন করলে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে মত তাদের।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘কিছু কিছু দেশে যেমন ইন্দোনেশিয়ায় তাদের জনসংখ্যাও ঢাকার মতো। সে দেশেও উৎসবে তাদের শহর থেকে লাখ লাখ মানুষ বের হয়। আপনি শুনে অবাক হবেন, তাদের যে সেনাবাহিনী নৌবাহিনী আছে তাদের নৌযানগুলো জনগণের জন্য একদম ফ্রি করে দেয়। আমাদের অনেক রাষ্ট্রীয় গণপরিবহণ রয়েছে, এগুলো ঈদে বসে থাকবে; এগুলোও কাজে লাগানো যায়।’

যদিও উৎসবকেন্দ্রিক লম্বা ছুটি সড়কপথে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ ধাপে ধাপে কমিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এফএস