ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিষেবা স্থগিতের পর নীতি বদলাচ্ছে মাইক্রোসফট

৪ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যে মাইক্রোসফট
৪ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যে মাইক্রোসফট | ছবি: সংগৃহীত
0

গাজা যুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত শেষে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তি-পূর্ব পর্যালোচনা প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হবে এবং ‘মানবাধিকার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সচেতনতা বাড়ানো হবে’।

মার্কিন এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গত বছর এই পর্যালোচনা শুরু করে। গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারির জন্য ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মাইক্রোসফটের আজুর ক্লাউড এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে—এমন উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট প্রতিদিন লাখ লাখ ফিলিস্তিনির মোবাইল ফোনের কথোপকথন সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে আজুর ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

তদন্তের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মাইক্রোসফট জানায়, তারা ইসরাইলি মন্ত্রণালয়ের জন্য ক্লাউড স্টোরেজ ও এআই পরিষেবার নির্দিষ্ট কিছু সাবস্ক্রিপশন বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।

সর্বশেষ এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা তদন্ত শেষ করেছে এবং মানবাধিকার নীতিমালার কার্যকারিতা বাড়াতে কিছু পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তি-পূর্ব পর্যালোচনা প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করা।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ‘একটি বিশেষ টিম বিদ্যমান প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত যথাযথ অনুসন্ধানের কার্যকারিতা বাড়িয়ে এটিকে আরও দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগের উপায় খুঁজছে।’

মাইক্রোসফট আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কিছু বাজারে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের তত্ত্বাবধানে থাকা বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলোও পর্যালোচনা করবে তারা। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, ‘আমরা কিছু দেশে নিরাপত্তা ছাড়পত্র কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। মাইক্রোসফটের হয়ে কাজ করার সময় কর্মীরা যেন নিরাপত্তা ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে বুঝতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।’

এছাড়া কোম্পানিটি ‘গ্রহণযোগ্য ব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও তাদের প্রয়োগের পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা’ করার পরিকল্পনাও করেছে। তারা জানিয়েছে, সংঘাতকবলিত এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসহ ‘নিরবচ্ছিন্ন যথাযথ অনুসন্ধান পদ্ধতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ’ চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তারা মানবাধিকার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সচেতনতাও বাড়াবে। কোম্পানির পণ্য ও সেবার গ্রহণযোগ্য ব্যবহার সংক্রান্ত মাইক্রোসফটের নীতিমালা সম্পর্কে কর্মীদের অতিরিক্ত নির্দেশনা দেয়া হবে। কর্মীদের নাম প্রকাশ না করেই তাদের যেকোনো উদ্বেগের কথা জানানোর জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

গত বছর গাজা যুদ্ধের সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অধিকারকর্মী, প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং কিছু কর্মীর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে মাইক্রোসফট। ‘নো আজুর ফর অ্যাপার্টহাইড’-এর মতো গোষ্ঠীগুলো মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। গত আগস্টের শেষ দিকে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে মাইক্রোসফটের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের কার্যালয় দখল করে নেন।

ডিসেম্বরে মাইক্রোসফটের মানবাধিকার বিষয়ক যথাযথ অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা মূল্যায়নের আহ্বান জানানো একটি প্রস্তাব শেয়ারহোল্ডাররা প্রত্যাখ্যান করেন।

ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তির কারণে পালান্টির, লকহিড মার্টিন, বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টন ও গুগলসহ অন্যান্য কোম্পানিও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এএম