কুয়েত যেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ঢাকায় এসে এক সপ্তাহ ধরে ঘুরছেন ভোলার মোহাম্মদ শরীফ। গাড়ি চালক ভিসায় দেশটিতে যেতে দালালের হাতে তুলে দিয়েছেন ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
যদিও দেশটিতে যেতে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার টাকার মতো। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ঢাকার একটি এজেন্সি তার কাগজপত্র তৈরিসহ বিমান টিকিট করে দেয়ার কথা। ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও গন্তব্যের যাত্রা এখনও অনিশ্চিত তার।
মোহাম্মদ শরীফের ভাষ্য—টিকিট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তাকে। এরপর তিনি যাচাই করেতে গেলে অনলাইনে কোনো তথ্য পাননি।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরু তথ্য বলছে, কুয়েতের শ্রমবাজারে ঢুকে পড়েছে সিন্ডিকেট প্রথা। ১৭টি রিক্রুটিং এজেন্সি দীর্ঘদিন দেশটিতে কর্মী পাঠানোর কাজ করছে। আদায় করছে অতিরিক্ত টাকা।
২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৪ হাজার কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৭ মিলিয়ন ডলার অন্যায়ভাবে আদায়ের অভিযোগও উঠেছে দুদকে।
মালয়েশিয়ায় প্রথমে ১০ পরে ২৫; সবশেষ ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি হয়। এই সিন্ডিকেট সদস্যদের বাড়তি অর্থ আদায়ের কারণে অভিবাসন ব্যয় দাঁড়ায় সাড়ে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকায়। অথচ সরকার নির্ধারিত ব্যয় ছিল মাত্র ৮৯ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন:
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মীদের ভিসা প্রাপ্তিতে কেনাবেচা ও হাত বদলের কারণে ব্যয় বাড়ছে। মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট এক্ষেত্রে স্পষ্ট হলেও অধরা থেকে যাচ্ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা দালালচক্র।
ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক জাছিয়া খাতুন বলেন, ‘সিন্ডিকেটের ফলে যেমন দেশের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই আমাদের প্রবাসী কর্মীরা অনেকগুলো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।’
বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, ‘এখানে একটা গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সিন্ডিকেট করে। এর সঙ্গে অনেকগুলো মহল জড়িত থাকে। এমনকি সরকারও বিভিন্ন কাজ করে থাকে অন্যায়ভাবে।’
হঠাৎ করে এই সিন্ডিকেট নির্মূল সম্ভব নয়, তবে এই প্রথা থেকে বের হয়ে আসাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেট, আমরা আসল রুটে যাবো, কীভাবে এসব জায়গা থেকে বেরিয়ে আসা যায়। এসব বিষয় রাতারাতি হবে না। এখন এটাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে দিতে হবে। ব্যয় কমিয়ে এনে কর্মীদের মর্যাদাপূর্ণ কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে।





