Recent event

রক্তক্ষয়ী সংঘাতে আলোচনার আহ্বান কাবুলের; নাশকতায় জিরো টলারেন্স পাকিস্তানের

পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ
পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ | ছবি: সংগৃহীত
1

একদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানকে দ্বন্দ্ব সমাধানে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ। এদিকে তালেবানের যেকোনো নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলার জবাবে অপারেশন ‘গজব লিল হক’ পরিচালনা করে ২৯৭ তালেবান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করে পাকিস্তান। বিপরীতে ৫৫ পাক সেনা নিহতের দাবি তালেবানের।

গেল বছরের অক্টোবরের পর আবারও সরাসরি রণক্ষেত্র পরিণত হয়েছে পাক-আফগান সীমান্ত। প্রতিশোধের আগুন থেকে শুরু হওয়া সংঘাত পাঁচ দিনের মধ্যেই দানা বেঁধেছে সরাসরি যুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে হামলা শুরু করে আফগান তালেবানরা। নিহত হন অর্ধশত পাক সেনা। এর জবাবে গতকাল (শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার আগেই আফগানিস্তানের তিন সীমান্তবর্তী প্রদেশ কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় অপারেশন গাজাব লিল হক পরিচালনা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। কাবুলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করে এক রাতের ব্যবধানেই দুই শতাধিক তালেবান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। অর্ধশতের বেশি ঘাঁটিসহ তালেবান সেনাদের ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি, যুদ্ধযান গুড়িয়ে দিয়েছে তারা।

বিপরীতে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরে ড্রোন হামলা চালায় তালেবান যোদ্ধারা। কয়েকজন পাক সেনা অপহরণের দাবিও করে তারা। তবে একদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানকে দ্বন্দ্ব সমাধানে আলোচনায় আহ্বান জানান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। এর আগেও দ্বন্দ্ব সমাধানে ইসলামাবাদের সঙ্গে বসেছি। দুঃখজনক হলেও সত্য পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের নিরসন চায় না।’

অন্যদিকে আফগান তালেবানের যেকোনো নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। রাওয়ালপিণ্ডিতে সেনা সদর দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে একথা জানান তিনি। এসময় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরীফ নিশ্চিত করেন, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে ১২ পাক সেনা নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসী কিংবা পাকিস্তানের সরকার দুটির মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। এটা আমরা আগেও বলেছি। এবারও আমাদের বার্তা স্পষ্ট করতে চাই।’

আরও পড়ুন:

এছাড়া আলাদা এক বিবৃতিতে তালেবান ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যেকোনো হামলা আরও কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে সংঘাত ভুলে কাবুল ও আফগানিস্তানকে দ্বন্দ্ব ভুলে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘসহ একাধিক দেশ। এছাড়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এসএস