আজ (মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির সারি চোখে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লেগে যাচ্ছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।
ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হওয়া পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম জানান, ভোট দেয়ার জন্য ছুটি পেয়ে সকালে বের হয়েছিলেন। কিন্তু চন্দ্রা এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে পড়েছেন। এতে কখন বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি।
একই চিত্র দেখা গেছে দূরপাল্লার অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যেও। কোনাবাড়ী থেকে রাজশাহীগামী গৃহকর্মী হাসিনা বেগম জানান, ভোট দেয়ার আগ্রহ থেকেই ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তবে যানজটের কারণে ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, নির্বাচনি দায়িত্বে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকায় মহাসড়কে জনবল কম রয়েছে। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, ‘সীমিত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।’
এদিকে, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশেও উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। বাসের সংকটে অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গাড়ি পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ট্রাকে করেই গন্তব্যে যাচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, এ সুযোগে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় সকালে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের বেশিরভাগই শ্রমিক। দিনাজপুরগামী যাত্রী সুজন দে জানান, সকাল ৬টা থেকে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। দু’একটি বাস এলেও অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় উঠতে পারেননি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা জানান, মৌসুমি কৃষিকাজ ও শিল্পকারখানার কাজে উত্তরাঞ্চল থেকে অনেক শ্রমিক মির্জাপুরে অবস্থান করছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট দিতে তারা এখন দলে দলে বাড়ি ফিরছেন। গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো ছুটি দেয়ায় মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।
মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। মির্জাপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন, ঢাকা থেকে মির্জাপুর আসতে অস্বাভাবিক সময় লাগছে, ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন ঘিরে মানুষের এ যাত্রা ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহকে সামনে আনলেও; একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্রও তুলে ধরছে।





