২০২০ সালে নৌকায় তুরাগ নদী পার হতে গিয়ে ট্রলারের প্রোপেলে কাটা পড়ে মারা যান আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই। নদীটিতে সেতু না থাকায় সেদিন হারাতে হয় প্রিয় ভাইকে- এমন আক্ষেপে আজও ভারী হয়ে ওঠে আনোয়ার হোসেনের কণ্ঠ।
কেবল আনোয়ার হোসেনের ভাই নন, স্থানীয়দের অভিযোগ, গেল ১০ বছরে নৌকায় করে এই নদী পার হতে গিয়ে প্রাণ গেছে অন্তত ২০ জনের।
ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাংশ দিয়ে বয়ে চলা এই তুরাগ নদী রাজধানী থেকে বিভক্ত করেছে ঢাকা ১৪ আসনের আওতাধীন কাউন্দিয়া ও বনগ্রামের প্রায় ৩ লাখ বাসিন্দাকে। ঢাকার মিরপুর থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্ব হলেও, এখানে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত অবকাঠামো। স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত এখানকার সাধারণ মানুষ। শিক্ষা, অর্থনীতিসহ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজেও পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মূল সমস্যা হলো ব্রিজ। ঢাকার পাশে হওয়ার পরেও ব্রিজ না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ আহত হচ্ছে।
একই সংকটে উত্তরার প্রায় ২ লাখ বাসিন্দা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হলেও এখনও অন্ধকারে উত্তরখান ও দক্ষিনখান এলাকা। সন্ধ্যা নামলেই এলাকাটি পরিণত হয় অপরাধীদের অভয়ারণ্যে। যোগাযোগ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবেও পিছিয়ে এই দুই জনপদ। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার জলাবদ্ধতা শুষ্ক মৌসুমেও দুয়ারে রয়ে গেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার পিছিয়ে পড়া এই দুই জনপদে মোট ভোটার ৫ লাখের বেশি। ফলে ঢাকা ১৪ ও ১৮ আসনের এই দুই অঞ্চল নিয়ে নানা পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির কথাও বলছেন প্রার্থীরা। নির্বাচিত হলে দ্রুত নাগরিক চাহিদা পূরণের আশ্বাস তাদের।
ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা তুলি বলেন, ‘আমরা যদি জয়ী হয়ে আসি আমরা প্রথমেই কাউন্দিয়ার জনগণের জন্য এ তিনটা জায়গায় কাজ করবো। ব্রিজ তৈরি করার মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।’
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ‘আমাদের প্রথম দাবি মিরপুর থেকে কাউন্দিয়া ব্রিজ। দ্বিতীয় হচ্ছে কাউন্দিয়াতে একটি সরকারি হাসপাতাল করতে হবে। আর ব্রিজ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপদে যেন যাতায়াত করতে পারে এজন্য হয় ফেরি নাহয় বড় নৌকার কোনো ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।’
এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে আমাদের যে সমস্যাগুলো আছে জলাবদ্ধতা থেকে শুরু করে, সেবা থেকে শুরু করে সমস্ত সমস্যা একত্রিত করে আমরা জনগণের কল্যাণের জন্য এ সেবাগুলো দেয়ার চেষ্টা করবো।’
নির্বাচন আসে নির্বাচন যায়, তবে এখানকার বাসিন্দাদের পরিচয় তোলা থাকে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর তালিকায়। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বাংলাদেশের যে যাত্রা, সেখানে উন্নয়নের ট্রেনের টিকিট কী আদৌ পাবে এই দুই অঞ্চলের বাসিন্দারা- সেটিই এবার দেখার অপেক্ষা।





