ঢাকার আমেরিকান দূতাবাসে সাক্ষাতের জন্য এসেছেন মোহাম্মদপুরের ইসফাক-ফারহানা দম্পতি। গত সেপ্টেম্বরে ভিসার আবেদন করেছিলেন তারা। সাক্ষাতের পর বৃহস্পতিবার তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে তারা জানতে পারেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইসফাক বলেন, ‘আমরা হয়তো তাদের বোঝাতে পারিনি। যেহেতু আমাদের কোনো ডিপেন্ডেন্ট নেই তাই ওনারা মনে করেছে আমরা গেলে আর আসবো না।’
ফারহানা বলেন, ‘হয়তো একসময় চেঞ্জ হয়ে যাবে। চেঞ্জ হয়ে গেলে আবার যাবো।’
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকরা এই স্থগিতাদেশের আওতায় থাকবেন। এসব দেশ থেকে যারা ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটেগরিতে ভিসার আবেদন করেছে বা করবে, তাদের ভিসা প্রদান স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
তবে নতুন নির্দেশনায় ট্যুরিস্ট ও শিক্ষার্থীরা আওতাভুক্ত নয়। ব্যবসা বা বিনিয়োগ ভিসাও স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বে না বলছেন মার্কিন আইনজীবী।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র ইএসকিউ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি রাজু মহাজন বলেন, ‘এই যে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা যে পজ করা হলো, এখানে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট বলেছে, তারা স্পেশাল সিচুয়েশনকে কন্সিডার করবে এবং স্পেশাল সিচুয়েশন যদি ডিমান্ড করে তাহলে ভিসা দেয়া হবে। ইউএস সিটিজেনে যারা ফ্যামিলি মেম্বার তারা ভিসা পাওয়া ইউএস সিটিজেনে কন্সটিটিউশনাল রাইট। এ রাইট চাইলে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এত সহজে বন্ধ করতে পারবে না।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা নীতির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি তার কূটনৈতিক আলোচনার একটি সুযোগ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে ছাড় দিতে হতে পারে; সেই আলোচনা এগিয়ে রাখতে হবে বাংলাদেশকেও।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘সরকারের একটি প্রস্তুতি থাকতে হবে। প্রতিশ্রুতির জায়গাও থাকতে হবে। অর্থাৎ নেগোসিয়েট টেবিলে যেন বাংলাদেশ বসতে পারে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় খুব বেশি সংকটের বিষয় না। সরকারকে প্রো অ্যাকটিভ পলিসির জায়গায় যেতে হবে। মার্কিন সরকার কোন কোন জায়গাগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে চাপ দিতে পারে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী বলেন, ‘হঠাৎ করেই ট্রাম্প সরকার তার যে অ্যান্টি মাগ্র্যান্ট স্ট্যান্ড সেটির সে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পুরো মাইগ্রেশন সেক্টরকেই ধ্বংসের মুখে ফেলে দিচ্ছে। স্টুডেন্ট হয়তো যেতে পারবে। তবে ইমিগ্রেশন পলিসির কারণে যারা পাশ করে গেছে তারা সেখানে আর চাকরি পাবে না। ভিসা যখন অ্যাপ্লাই করতে যাবে অন্য ভিসা অ্যাপ্লাই করতে পারবে না।’
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে বহু মানুষ মার্কিন ভিসা নিয়ে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কাজে যান। এখন তাদের যাত্রা স্থগিত হবে এবং আবেদনকারীদের নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। তবে যারা আগে স্থায়ী ভিসা পেয়েছেন, তাদের ভিসা প্রত্যাহার করা হবে না।





