যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিত: শিক্ষার্থী ও ট্যুরিস্টদের ওপর প্রভাব পড়ছে কি?

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি ২০২৬ | ছবি: এখন টিভি
0

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা স্থায়ী (Immigrant Visa) ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও, নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী (Non-Immigrant Visa) ভিসাগুলো এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে পর্যটন (Tourism), শিক্ষা (Education), অস্থায়ী কাজসহ স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ ও অবস্থান সংক্রান্ত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

একনজরে ভিসা তথ্যাদি

ভিসার ধরনবর্তমান অবস্থাপ্রয়োজনীয় ফর্ম
ইমিগ্র্যান্ট (স্থায়ী)স্থগিত (অনির্দিষ্টকাল)DS-260
স্টুডেন্ট (এফ-১/এম-১)সচলDS-160, I-20
ভিজিটর (বি-১/বি-২)সচলDS-160
ওয়ার্ক (এইচ-১বি)সচলI-129

আরও পড়ুন:

প্রশাসনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশ মূলত করা হয়েছে ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) নীতির আওতায়—যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে মার্কিন কল্যাণমূলক আর্থিক সুবিধার (Financial Benefits) ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের স্থায়ী অভিবাসন ঠেকানোই লক্ষ্য। তবে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্পষ্টভাবে চালু থাকবে বলে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট (US State Department) নিশ্চিত করেছে।

যেসব ক্যাটাগরির ভিসা প্রভাবিত হবে না নতুন এই সিদ্ধান্তে— নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো আগের নিয়মেই প্রক্রিয়াধীন (Visa Processing) থাকবে:

১. পর্যটক বা ভিজিটর ভিসা (B-1/B-2 Category): অর্থাৎ ব্যবসায়িক সফর (Business Trip), ভ্রমণ ও চিকিৎসা।

২. শিক্ষার্থী (F-1, M-1 Category): একাডেমিক ও ভোকেশনাল স্টাডি (Vocational Study)।

৩. এক্সচেঞ্জ (J-1 Category): স্কলার, ইন্টার্ন, আউ পেয়ার (Au Pair) সহ বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম।

৪. কর্মসংস্থান (H-1B, L-1, O-1, E Category): অস্থায়ী কাজের ভিসা (Temporary Work Visa)।

অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে— কে-১ (K-1 Visa) (ফিয়াঁসে অর্থাৎ বাগদত্তা/বাগদত্তীর), সি-১ (C-1 Visa) (ট্রানজিট অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য অস্থায়ী ভিসা) এবং ডি (D Visa) (ক্রু অর্থাৎ জাহাজ ও বিমানের ক্রু সদস্যদের জন্য ভিসা)।

আরও পড়ুন:

শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসার প্রক্রিয়া (Student and Exchange Visa Process)

শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসা (Student and Exchange Visa) যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই অভিবাসন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসা কোনোভাবেই প্রভাবিত করবে না। এফ-১, এম-১ এবং জে-১ ভিসাধারীরা এই স্থগিতাদেশের আওতার বাইরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process) আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।

ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফরমেশন সিস্টেম (SEVIS) স্বীকৃত হতে হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া অফার লেটার (Offer Letter) জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আই-২০ (I-20) ও ডিএস-১৬০ (DS-160) ফর্মটি যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে এবং নির্ধারিত এসইভিআইএস ফি (SEVIS Fee) পরিশোধ করতে হবে।

আবেদনকারীদের পড়াশোনার খরচ বহনের মতো আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (Financial Proof) দেখাতে হবে। একই সঙ্গে প্রমাণ করতে হবে যে পড়াশোনা শেষ হলে তারা নিজ দেশে ফিরে যাবেন, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার তাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এসব ভিসার ক্ষেত্রে দূতাবাসে ইন্টারভিউ (Visa Interview) নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষার্থী বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের জন্য আলাদা কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।

আরও পড়ুন:

আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ও ট্রাভেল আপডেট (International Events and Travel Updates)

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই সিদ্ধান্তে শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসাকে স্থগিত করলেও, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপসহ (2026 FIFA World Cup) আসন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্ট মাথায় রেখে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ, শিক্ষা ও কাজের ভিসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা রাখা হয়নি।

সবশেষ আপডেটের জন্য আবেদনকারীদের travel.state.gov-এ নজর রাখতে বলা হয়েছে।




এএম