প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে গণভোট ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইইউ এরইমধ্যে বাংলাদেশে বড় একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে, যা আগে কখনও করা হয়নি। কারণ তারা মনে করেছে, আগের তিনটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল না।’
শফিকুল আলম আরও জানান, নির্বাচন কমিশনসহ সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে, সরকার কোনো দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে না।’
সোশ্যাল মিডিয়াকে আসন্ন নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পতিত সরকারের লোকজন মিস ইনফরমেশন ছড়াতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সম্প্রতি কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের পর্যবেক্ষণ রয়েছে, এবং সব ঘটনায় আসামি ধরা পড়ছে।’
আরও পড়ুন:
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব জানান, নরসিংদীতে মনি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
শফিকুল আলম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রচারণা চালাবে এবং এই বিষয়ে আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নও নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং দেশের সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভোটিং সেন্টারে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ও র্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। ফলে ভোটিং কেন্দ্রের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা সম্ভব হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ইউ পর্যবেক্ষককে আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন এবং গণভোট হবে ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল এবং পিসফুল। তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান থাকবে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধ করতে সিকিউরিটি বাহিনী প্রস্তুত।’
শফিকুল আলম আরও জানিয়েছেন, দেশের তরুণদের মধ্যে ভোটে অংশগ্রহণের আগ্রহ বেশ উঁচু এবং ফরমাল নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ বলে প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন।





