Recent event

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন
সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন | ছবি: এখন টিভি
0

জাতিসংঘে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের রাণী ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন- আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- বিশ্বনেতাদের এবার এমন বার্তাই দেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

৮০তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন সকালে উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যেখানে অংশ নেন বিশ্বের শীর্ষ নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানরা। বৈশ্বিক শান্তি, যুদ্ধ–সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন ছিল এ অধিবেশনের মূল বিষয়।

পরে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক ও বিশ্বব‍্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা, তৈরি পোশাক খাতের বাজার সম্প্রসারণ, দারিদ্র বিমোচন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য বৈষম্য কমানো নিয়ে আলোচনা হয়। পরে নেদারল্যান্ডসের রাণী দ্বিতীয় ম‍্যাক্সিমার সাথে আলোচনায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্রঋণ, নারী উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল ফাইন্যান্সের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস তার সারাজীবনই মাইক্রো ক্রেডিট নিয়ে কাজ করেছেন, সোশ্যাল বিজনেস নিয়ে কাজ করেছেন। উনি মিটিংয়ে বাংলাদেশে ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বাড়ানোর বিষয়ে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এ সরকার কি কি কাজ করছে এবং সামনে কী করবে।’

পরে রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে রিসেপশনে যোগদান করে নৈশভোজে অংশ নেন ড. ইউনূস।

২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হবে। যা ইতিহাসের সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশা করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববাসীকে এমন বার্তাই দিয়েছেন। ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব বলেন, ‘মূল ম্যাসেজ হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমরা ইলেকশন করতে যাচ্ছি। এবং এটা ফ্রি, ফেয়ার, পিসফুল, ক্রেডিবল এবং খুবই উৎসবমুখর একটা নির্বাচন হবে এবং সেটার বিষয়ে পুরো বিশ্ববাসীকে জানানো।’

যদিও দ্বিতীয় দিনের এতো এতো আয়োজন থাকলেও প্রেস সচিবের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল বিমানবন্দরে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার বিষয়টি। প্রেস সচিব জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কি করতে পারে আমরা তো জুলাই-আগস্টে দেখেছি। হেন কোনো অপকর্ম নাই তারা করতে পারে না। এখন দেখেন তার কোনো বন্ধু নাই। তারায় কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। রাস্তার ছ্যাচড়াদের মতো তাদের অবস্থা।’

বিমানবন্দরে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের অবহেলা ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, রাজনৈতিক ৫ নেতারই তাদের সাথে বের হওয়ার কথা ছিল।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকেই আমরা সে প্রিপারেশন নিয়েছি। এবং সে অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের লিস্টও গিয়েছে। সে অনুযায়ী তারা আমাদের সঙ্গে নেমেছেন এবং কনভয়ে আসবেন। তারা আধা ঘণ্টা বসেও ছিলেন। কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত একটা জটিলতার কারণে অন্যদিক দিয়ে এসেছেন।’

তবে একজনের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রধান উপদেষ্টা বহর ৩০ মিনিট অপেক্ষায় করেছিলো। কিন্তু তারপরও দেরি হওয়ায় রাজনৈতিক নেতারা পরে বিমানবন্দর থেকে অন‍্য রাস্তা দিয়ে বের হন। যেখানে তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না। সবমিলিয়ে কমিউনিকেশন গ্যাপ ছিল বলেও স্বীকার করেন প্রেস সচিব।

দ্বিতীয় দিন নিউইয়র্কে রাজনৈতিক নেতাদের কোন কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিতে দেখা যায় নি।

এএইচ