এর কিছুক্ষণ আগেই সহ-পাইলট তাকে ছুরিকাঘাত করেন। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা স্মিথ বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর কাছ থেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করায় স্মিথসহ কয়েকজনকে নায়ক হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্মিথকে ‘নায়ক’ উল্লেখ করে তার অসীম সাহসিকতার প্রশংসা করেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুও স্মিথের লড়াইয়ের প্রশংসা করে জানান, তার সাহসিকতার কারণেই যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করতে পেরেছেন।
ওমানের নাগরিক বলে পরিচিত ওই সহ-পাইলট স্মিথকে ছুরিকাঘাত করলে ককপিটে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট (৪ হাজার ২৬৭ মিটার) নিচে নেমে যায়। এর পরপরই কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে আটকে ফেলেন। তাদের মধ্যে ইয়ানিভ হায়ুন নামে এক পাইপমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি জানান, ককপিটে ঢোকার পর অন্যদের ধস্তাধস্তির ফাঁকে তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেন।
ড. শোতা মুসায়েভ নামের এক দন্তচিকিৎসকও ককপিটে ছুটে যান। সিএনএনকে তিনি জানান, হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপটাই দিয়ে হামলাকারীকে বাঁধতে সহায়তা করেন তিনি। এরপর তিনি স্মিথের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে স্মিথের রক্তচাপ কমে যায় এবং তিনি একপর্যায়ে জ্ঞান হারান।
ওই ফ্লাইটে ডিউটিতে না থাকা (অফ-ডিউটি) আরও দুজন বিকল্প পাইলট ছিলেন। আলমগ ইতালি নামের এক যাত্রী জানান, তাদের একজন ব্রিটিশ নাগরিক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা ককপিটে ঢুকে বিমানটিকে স্থির করেন এবং সেটিকে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান।





