যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে চলতি বছরের বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। আর অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। তবে ফুটবলের এই মহারণ কি কেবলই ৪৮ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ? একবাক্যেই বলা যায়— না। হাজার হাজার মাইল দূরের উন্মাদনা ছুঁয়ে যায় বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িতে।
কিন্তু ফুটবল ঘিরে এই যে ব্যাপক পাগলামি সেটি কি কোনো ক্ষতি করে? নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি সার্বিক অর্থনীতিতে। মনে হতে পারেই টিকিট বিক্রি, বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন বিক্রি বেড়ে যাওয়াতে তো অর্থনীতি লাভবান হয়। কিন্তু আপনার এই সরল বিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্লাটফর্ম ইউকেজি।
সংস্থাটির গবেষণা বলছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন কর্মীদের মনোযোগ ধরে রাখতে মালিকপক্ষ হিমশিম খেতে হয়। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে। এর ফলে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। শুধু তাই নয় গবেষণা দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ কর্মী এই টুর্নামেন্টের জন্য তাদের কাজের সময়সূচী পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন।
আরও পড়ুন:
এছাড়া জরিপে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানে দেরিতে এসে, নির্ধারিত সময়ের আগে চলে গিয়ে বা একেবারেই না এসে কাজে অনুপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রাখেন ২৭ শতাংশ কর্মচারী। অন্যদিকে ১১ শতাংশ স্বীকার করেছেন যে তারা ফুটবলের চিন্তা মাথায় রেখেই কাজ করবেন এবং কর্মস্থলে গোপনে ম্যাচ ও হাইলাইটস দেখবেন বলে জানিয়েছেন ১৪ শতাংশ।
মূলত কর্মক্ষেত্রে বিশ্বকাপের প্রভাব মূল্যায়ন করার জন্য অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আট হাজার কর্মীর ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছে ইউকেজি। তাদের মতে, ফুটবল টুর্নামেন্টের কারণে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। আর এর পরেই রয়েছে জার্মানি, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার।
শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিশ্বকাপ ফুটবলের আকর্ষণ থেকে মুক্ত নন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, খেলা দেখতে একদিনের ছুটি নেয়ার পরিকল্পনা করেন ৪২ শতাংশ ম্যানেজার। তবে দেখার বিষয় ফুটবল নিয়ে এই উন্মাদনার মধ্য দিয়ে মালিকপক্ষ তাদের কর্মীদের আড্ডা কতটুকুই বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।





