ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতি, কমছে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

ভিনদেশিদের জন্য ক্রমেই কঠোর হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আরও কঠোরতা আরোপের পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষিত নতুন এ ভিসা নীতির আওতায়, শিক্ষার্থী ও বিনিময় ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর। আর সাংবাদিকদের ভিসা যা আগে কয়েক বছর স্থায়ী থাকতো, তা এখন গিয়ে দাঁড়াবে ২৪০ দিনে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে আরও কঠোরতা আরোপের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর এ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ও বিনিময় ভিসা অধীনে সাংস্কৃতিক কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ চার বছর অবস্থান করতে পারবেন। এছাড়াও, প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে।

এর আগে, এফ-১ ও জে-১ ভিসায় আসা শিক্ষার্থীরা ‘ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস’র অধীনে পড়ার অনুমতি পেতেন—যার অর্থ তারা তাদের ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে থাকতে পারতেন। সেই সুবিধা এখন বাতিল করা হচ্ছে। নতুন বিধি অনুযায়ী, স্নাতক শেষে শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়তে বা অন্য ভিসায় পরিবর্তন করতে আগের ৬০ দিনের পরিবর্তে মাত্র ৩০ দিন সময় পাবে। আর সাংবাদিকদের ভিসা যা আগে কয়েক বছর স্থায়ী থাকত তা এখন গিয়ে দাঁড়াবে ২৪০ দিনে।

আরও পড়ুন

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন এক বিবৃতিতে বলেন, কয়েক দশক ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছিল। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি এড়াতে চিরস্থায়ীভাবে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি থেকে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। নতুন এই নিয়ম ভিসার ব্যাপক অপব্যবহার মোকাবেলায় সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের শীর্ষ সংস্থা এনএফএসএ। নতুন এ নিয়মগুলোকে ‘ভ্রান্তিকর ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী। এছাড়াও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন স্নাতকোত্তর ও গবেষণামূলক প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ স্নাতক প্রোগ্রাম চার বছরের হলেও পিএইচডি বা অন্যান্য উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগে। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা শিক্ষাবিদদের।

ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই নতুন এ পদক্ষেপ, যা বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে আগমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন এই নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠিন গন্তব্যে পরিণত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেআর