যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলস থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের চিত্র এটি। ছেঁড়া ফাটা তাঁবু ও অস্থায়ী ঝুপড়িতে ভরা এই জরাজীর্ণ এলাকাটিতে ছন্নছাড়া জীবন এখন অনেক যুক্তরাষ্ট্রবাসীর। কেউ কেউ আবার ‘হেলপ’ লিখে সাহায্যের আশায় দাঁড়িয়ে আছে অলিতে গলিতে।
আমি প্রায় সাত বছর ধরে রাস্তায় বাস করছি। এখানে বেঁচে থাকাটাই কঠিন। রাস্তায় বসবাসকারীদের জন্য অনেক ঝুঁকি থাকে। এখানে আমরা নিজেদের রক্ষা করার জন্য যা করতে হয় তাই করি।
দেশটিতে গৃহ সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। যার পেছনে সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব, উচ্চ বেকারত্বের হার, স্বাস্থ্যব্যয় এবং সামাজিক বৈষম্যকে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যেই সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। গেল বছরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে শহরের রাস্তাগুলো থেকে গৃহহীনদের উচ্ছেদে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে গৃহহীন জনসংখ্যা রেকর্ড ৭ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এমন অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহহীনদের উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
এনজিও কর্মী সিয়ারা বলেন, ‘গৃহহীনদের অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এখানকার মানুষদের উপর হামলা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এছাড়া গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে এখানে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ মারা যায়।’
মার্কিন সরকার ২০২৬ সালে স্থায়ী আবাসন সহায়তার অর্থায়নকে অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। যা আরও ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে গৃহহীন করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এক গৃহহীন নাগরিক বলেন ‘গৃহহীনদের ঘুমন্ত অবস্থায় গুলি করে মারা হবে অথবা আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে। মাদকের জন্য পাওনা টাকা না পেয়ে বা অসম্মান করার কারণে, প্রতিশোধের বশে এভাবেই হত্যা করা হবে।’
এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের মধ্যেও বেসরকারি সংস্থাগুলো তাদের সাধ্যমতো সহায়তা করার চেষ্টা করছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আছে এমন গৃহহীনদের সেবায় এগিয়ে আসছে এনজিও কর্মীরা।
এনজিও কর্মী আশের হাং বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য ঘর তৈরি করতে পারি। নিম্ন আয়ের আবাসন তৈরি করতে পারি। প্রকৃতপক্ষে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যা তাদের নতুন জীবন দিতে পারে।’
যদিও এনজিওগুলো সীমিতভাবে সহায়তা দিচ্ছে, তবু মানসিক অসুস্থতা, মাদকাসক্তি ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে সংকট সমাধানে অগ্রগতি খুবই কম।




