গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে মেইনের লুইস্টন এবং পোর্টল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া, গুয়াতেমালা এবং সুদানের বেশ কিছু নাগরিককে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইস।
মেইনের গভর্নর জ্যানেট মিলস এ আগ্রাসী অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এ অমানবিক কৌশল তার রাজ্যে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘অপরাধীদের আশ্রয়দাতা’ হিসেবে অভিযুক্ত করে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ডিএইচএস মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন এক বিবৃতিতে জানান, তারা আর ‘অপরাধী অবৈধ এলিয়েনদের’ আমেরিকান নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস চালাতে দেবেন না। মেইনের ইউএস অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু বেনসন সাফ জানিয়েছেন, ফেডারেল আইন প্রয়োগে বাধা দিলে যে কাউকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
কেবল মেইন বা মিনেসোটা নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এ ‘গণ-নির্বাসন’ প্রচারণা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ডেমোক্র্যাট শাসিত রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মিনেসোটার মিনিয়াপলিসে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনের মতো রাজ্যগুলোতেও আইস তাদের অপারেশন জোরদার করেছে। বিশেষ করে ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ হিসেবে পরিচিত শহরগুলোতে অভিবাসীদের বসতবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে তল্লাশি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেয়া এক বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমালি অভিবাসীদের ‘দস্যু’ বলে বিদ্রুপ করেন। তিনি দাবি করেন, অভিবাসীরা জালিয়াতির মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে এবং এদের হাত থেকে আমেরিকান নাগরিকদের রক্ষা করতেই এ অভিযান জরুরি।
এদিকে অভিযানে ফেডারেল এজেন্টদের আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওয়েস্টব্রুকের মেয়র ডেভিড মোর্স অভিযোগ করেছেন, ফেডারেল কর্মকর্তারা সাধারণ নাগরিকদের ওপর ভীতি প্রদর্শন ও দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। লুইস্টনের মেয়র কার্ল শেলিন এ অভিযানকে ‘মানবিকতাহীন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে আইস কর্মকর্তার গুলিতে রেনি গুড নামে এক নাগরিকের মৃত্যুর পর থেকে প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ বলছে, আবাসিক এলাকায় টিয়ার গ্যাস ও বলপ্রয়োগের ফলে ট্রাম্পের এ অভিবাসন নীতির প্রতি জনসমর্থন দিন দিন কমছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ অভিযানের ফলে বৈধ নাগরিক ও শরণার্থীরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ইস্যুটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




