ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের, আর প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেহরানের হামলা-পাল্টা হামলার পালা স্থগিত থাকলেও, বন্ধ নেই কথার লড়াই। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধে পরাজয় মেনে নেয়ার আহ্বান ইরানের; অন্যদিকে তেহরানকে ‘চরম মন্দ’ আখ্যা দেন ট্রাম্প।
শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি, আর কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্থবির। ফলে সংঘাতে সমাপ্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না যুদ্ধরত কোনো পক্ষের দিক থেকেই। এ অবস্থায় যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন জনগণকে জ্বালানির বাড়তি দাম মেনে নেয়ার আহ্বান প্রেসিডেন্টের; জানান, ইরান যুদ্ধের জন্য কখনোই ক্ষমা চাইবেন না তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘পেট্রোলের জন্য সামান্য বেশি দাম দেয়ার সময় মনে রাখবেন, বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের এক নম্বর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক- চরম মন্দ একটি দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাওয়া থেকে রুখতে এই দাম দিতে হচ্ছে। । আমরা চাই না তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক। তাই দামটা চার ডলারে গিয়ে দাঁড়ালে সামান্য একটু বেশি পড়ছে, কিন্তু এটা ঠিক আছে। আমি কখনো ক্ষমা চাইব না। আমি সঠিক কাজটিই করেছি।’
আরও পড়ুন:
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতেও। কিন্তু তাও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে এখনও কিছু ভাবেনি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে তখনই, যখন তেহরানের দেয়া শর্ত মেনে নেবে ওয়াশিংটন। প্রতিক্রিয়ায় শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ঘোষণার প্রতিজ্ঞা ট্রাম্পের।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান খুব বাজেভাবে হারছে। দেশটিকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবো।’
ট্রাম্পের শুক্রবারের মন্তব্যকে ফাঁকা বুলি আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটনের হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে তেহরান ভয় পাবে না উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, শুধু ইরানের কর্তৃত্বেই খোলা বা বন্ধ থাকবে হরমুজ।
১২ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর ১৬৬ দিনে হরমুজ অতিক্রম করেছে তিন হাজার ৩৭১টি জাহাজ, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী যান চলাচলের প্রায় ২০ শতাংশ।





