টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিহত ৮, মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা | ছবি: রয়টার্স
0

টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলস্টেশনসহ কয়েকটি বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বন্দর আব্বাস শহরজুড়ে বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছে। জবাবে বাহরাইনের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। এছাড়া হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেবের প্রবেশপথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি গেল জুন মাসে স্বাক্ষরিত দু’দেশের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ভেঙে যাওয়াতে পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে।

টানা ষষ্ঠ রাতের মতো স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইরানের বন্দর নগরী আব্বাসের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশের বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারাবাহিক এসব হামলায় এসব এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা ও সেতুসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে এসব মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইনের সাখির বিমানঘাঁটিতে মার্কিন হেলিকপ্টার ও গোয়েন্দা বিমান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, তারা বাহরাইনের মার্কিন বাহিনী ছাড়াও হরমুজ প্রণালীতে দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া কুয়েত-ইরাকের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে ৩২টি শত্রু ড্রোন আটক করার কথা নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন:

আইআরজিসি আরও জানায়, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এবং নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া দুটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ পার হোয়ার চেষ্টা করলে সেগুলোকে আঘাত করতে বাধ্য হয় তারা। পাশাপাশি হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেবের প্রবেশপথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি।

হুতি নেতা আব্দুল-মালিক আল-হুতি বলেন, ‘যদি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আমাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়ায়, অবরোধ তুলে নেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ করার পথ বেছে নেয়, তাহলে দেশটির সমস্ত তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমরা কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখব না। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আমরা এগিয়ে যাব। তিনিই সর্বোত্তম সাহায্যকারী ও রক্ষাকর্তা।’

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলা, অনুশোচনা, ক্ষয়ক্ষতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুতে বিলম্ব এবং একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইআরজিসি বাহরাইনের জুফায়ের ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর বেশ কয়েকটি অস্ত্রাগার, একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র এবং আবাসন ভবনে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাই ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনী দেশটিতে হামলা অব্যাহত রাখবে। এরকম পরিস্থিতি আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মত দিচ্ছেন আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এসএস