এ যে এক শোকের নগরী। বাতাসে বারুদের গন্ধ, দূর থেকেও শোনা যায় কান্নার শব্দ। মসজিদ, মাজার, মহাসড়ক, অলিগলি- যেখানে চোখ যায় সেখানেই সর্বশান্ত মানুষের হাহাকার। মাতম ইরানজুড়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, যেকোনো মুহূর্তে হামলার শঙ্কা, মৃত্যুর পরোয়ানা- কোনো কিছুরই আর তোয়াক্কা করছেন না ইরানবাসী। ছুটে এসেছেন শোক আর ক্ষোভ নিয়ে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এভাবেই তাকে স্মরণ করেছেন অনুসারীরা। বুক চাপড়ে কেঁদে, প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘ যাত্রা কামনা করে স্লোগান দিয়েছেন অনেকে। লাখো মানুষের ঢল নামে ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানের নাকস-ই-জাহান স্কয়ারে। সাধারণ জনগণের আরেকটি বড় অংশ ছুটে যায় মাশহাদে ইমাম আলী রেজার মাজার শরীফে। যেখানে শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সমাহিত করার রীতি আছে।
আরও পড়ুন:
এই শোকের বিপরীতে উল্লাস করেছে সরকার বিরোধীদের একাংশ। শনিবার রাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলার পরপরই রাজপথে নেমে আসেন রাজতন্ত্র সমর্থকদের একাংশ। এসময় খামেনি বিরোধী স্লোগান দিয়ে সর্বোচ্চ নেতার ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে তা পূরণে এরইমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে অস্থায়ী কাউন্সিল। সরকারি বার্তা সংস্থার তথ্য, অন্তর্বর্তী সময়ে এই কাউন্সিলই নেতৃত্ব দেবে ইরানকে।





