Recent event

পরিত্যক্ত জিনিসে বদলে গেছে লেবাননের রাস্তার সৌন্দর্য

পরিত্যক্ত জিনিসে বদলে গেছে বৈরুতের রাস্তা
পরিত্যক্ত জিনিসে বদলে গেছে বৈরুতের রাস্তা | ছবি: এখন টিভি
0

ফেলে দেয়া পরিত্যক্ত জিনিস দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরির কথা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এ শিল্পকর্ম দিয়ে পুরো শহর সাজিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন লেবাননের কিছু স্বেচ্ছাসেবী। রমজানকে ঘিরে রাজধানী বৈরুতের রাস্তায় রাস্তায় শোভা পাচ্ছে তাদের তৈরি শিল্পকর্ম, এতে বেড়েছে শহরের ।

বৈরুতের একটি ছোট কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে ফেলনা পণ্য যেমন পুরনো সিডি, কার্ডবোর্ড এবং কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি হচ্ছে সাজসজ্জার বাহারি জিনিস। যা এখন শোভা পাচ্ছে শহরের রাস্তায় রাস্তায়।

এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘আহলা ফাওদ’ নামে একটি এনজিও। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ইমান আসাফ জানান, তিন পার বছর আগে বৈরুতে ‘ইকো হাব’ নামে একটি কমিউনিটি সেন্টার চালু করেন। ফেলে দেয়া পণ্য ফের ব্যবহার উপযোগী করার পদ্ধতি শেখানোই যার উদ্দেশ্য। যা নিজের প্রয়োজনেও কাজে লাগে। বর্তমানে এখানে একটি বুটিক এবং লাইব্রেরিও আছে।

আহলা ফাওদার প্রতিষ্ঠাতা ইমান আসাফ বলেন, ‘যাদের কেনাকাটার সামর্থ্য নেই, তারা পুরোনো প্লাস্টিক, টিন এবং কাগজ দিয়ে কেনাকাটা করতে পারেন। এ জিনিসগুলোকে আমরা বিনিময়যোগ্য মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করি এবং বিনিময়ে তারা দোকান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারেন।’

আরও পড়ুন:

রমজান শেষ হলে এ সাজসজ্জাগুলো খুলে ফেলা হবে। আগামী বছর ব্যবহারের জন্য এগুলো যত্ন করে রাখা হবে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়।

আহলা ফাওদার প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষার স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দেই। তাই এ সাজসজ্জাগুলো খুলে আমরা তুলে রাখব এবং আগামী বছর আবারও এগুলো ব্যবহার করবো। আর যদি বাড়তি কিছু করার সুযোগ থাকে, তবে অবশ্যই সেগুলো নিয়ে কাজ করব।’

রিসাইক্লিংয়ের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে এ কাজ একদিকে যেমন শহরের শোভা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে মানুষকে পুরোনো জিনিস নতুনভাবে ব্যবহারও শিখিয়েছে।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘এটি চমৎকার একটি উদ্যোগ। আমি সবাইকে এ কাজে উৎসাহিত করছি। আগে আমরা যেসব সাজসজ্জার পণ্য কিনে আনতাম, সেগুলো এখন অন্য মানুষদের দিয়ে দেয়া উচিত।’

আবর্জনা ভেবে ফেলে দেয়া পণ্যও যে সৌন্দর্য বাড়ানোর অন্যতম উপাদান হতে পারে, এ উদ্যোগ তারই প্রমাণ।

জেআর