শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। শান্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার দেবে ওয়াশিংটন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে চুক্তি হলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান পুনর্গঠনে এই অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি আদৌ রাখবে কি না যুক্তরাষ্ট্র?
প্রশ্ন ওঠার কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে ভিন্ন সুর। সিবিএস নিউজকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তির ব্যাপারে ইরানের সদিচ্ছা ও পদক্ষেপের ওপর। যদিও ওয়াশিংটনের পরিষ্কার বার্তা, দেশ সংস্কারের জন্য তহবিল দেয়া হচ্ছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য নয়। আবার ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে অর্থ দেয়ার খবরটি মিথ্যাচার।
আরও পড়ুন:
এখানেই শুভঙ্করের ফাঁকি দেখছেন বিশ্লেষকরা। আশঙ্কা আছে, পরমাণু কর্মসূচি কিংবা নানা অজুহাতে এই অর্থ দেয়ার শর্ত থেকে সরে আসতে পারেন ট্রাম্প।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, এই অর্থ মার্কিন প্রশাসনের তহবিল থেকে আসবে না। সেক্ষেত্রে, ইরান পুনর্গঠনের কাজ শুরু হওয়া মানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে একধরণের শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়া। মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের মতে, তেহরানকে এ তহবিল দিলে ওয়াশিংটনের লাভই হবে, কারণে ট্রাম্প প্রশাসন এ অর্থ জোগাড় করবে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে।
এই তহবিল ছাড়াও ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় নিয়েও আছে বিভক্তি। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি জানায়, সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফায় ইরানের জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার কথা আছে। কিন্তু জটিলতা হচ্ছে, ইরানের কি পরিমাণ সম্পদ জব্দ হয়েছে তার কোনো সুস্পষ্ট ধারনা নেই। এই ৩০০ বিলিয়ন তহবিলের মধ্যে জব্দকৃত সম্পদের কিছু অংশও যোগ করা হয়েছে এমন গুঞ্জনও শোনা গেছে। কিন্তু জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেয়া নিয়ে এখনও কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি ওয়াশিংটন।





