ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এলেও পাল্টাপাল্টি হুমকিতে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে বাজছে যুদ্ধের দামামা। এরমধ্যে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ বড় মার্কিন নৌবহর পাঠানোর খবরে যুদ্ধের শঙ্কা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। সরকারের ঘনিষ্ঠ দুই সূত্র বরাতে এই খবর প্রকাশ করা হয়।
গতকাল (শনিবার, ২৪ জানুয়ারি) ভারতের মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল সাঈদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ দাবি করেন বলেন, ‘ইরান ভয় পায় না, আর বাঙ্কার ছাড়াই খামেনির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি যেকোনো ধরনের হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনায় নেয়ার কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে ইরান। এরজন্য ট্রিগারে আঙুল রেখে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারও করেছে তেহরান।’
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানো ছাড়া ইসরাইলও তেহরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে, তুরস্কের এমন আশঙ্কার পর উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়ছে এ অঞ্চলে। ট্রাম্প এরিমধ্য যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠিয়ে এবং তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে। ফলে তেহরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন বলে মনে করছেন ইরানের সাধারণ মানুষ।
তারা জানান, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড এবং হুমকিতে বোঝাই যাচ্ছে তিনি একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। যা করতে তিনি পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, মার্কিন রণতরী পাঠানো অবশ্যই আক্রমণের প্রস্তুতিমূলক একটি পদক্ষেপ। আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকতেই পারে, এর জন্য হুমকিতে আমরা আমাদের দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করতে পারি না।
স্থানীয় সময় গতকাল ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানির মেয়ে ফাতেমেহ আরদেশির লারিজানিকে বরখাস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যায়টিতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ উত্তেজনা কমলেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অপসারণের আহ্বান অব্যাহত রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। এঅবস্থায় খামেনিতন্ত্র উৎখাতের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলছে প্রবাসী ইরানীদের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ। যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র পতন অসম্ভব বলেও দাবি তাদের।
এক প্রবাসী ইরানী বলেন, ‘আমি মনে করি আমেরিকানদের হস্তক্ষেপ ছাড়া ইরানীদের জয়ের কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ বর্তমান সরকার নিজস্ব জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক অস্ত্র ব্যবহার করে। আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই খামেনিতন্ত্রের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। আর আগামী শনিবার আমরা এখানে উদযাপন করতে চাই।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘনিভূত হতেই শনিবার ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম এবং সুইসসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় বিমান সংস্থা।





