খোদ মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভূমিকা নিয়েই এবার সমালোচনা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মার্কিন-আফগান যুদ্ধে পেছনের সারিতে বা নিরাপদ দূরত্বে ছিলেন ন্যাটো সৈন্যরা। এমনকি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনে আসেনি। ভবিষ্যতে বিপদে পড়লে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আদৌ পাশে দাঁড়াবে কি না এমন প্রশ্নও তুলেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কখনও তাদের প্রয়োজন হলে তারা কি সেখানে থাকবে? এটিই আসলে চূড়ান্ত পরীক্ষা। আমি নিশ্চিত নই। তবে আমাদের কখনও তাদের প্রয়োজন হয়নি। আপনি জানেন, তারা বলবে যে তারা আফগানিস্তানে বা এখানে-সেখানে কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে। হ্যাঁ তারা তা করেছে। তবে কিছুটা পিছনে, অর্থাৎ সামনের সারি থেকে দূরে। কিন্তু আমরা ইউরোপ এবং অন্যান্য অনেক দেশের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছি।’
এমন মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা থেকে শুরু করে সব রাজনীতিবিদ, প্রিন্স হ্যারি, অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদেশ এবং আফগানিস্তান যুদ্ধফেরত সেনাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বইছে নিন্দার ঝড়, ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করে বহু সেনা হতাহত হওয়ার পরও ন্যাটোর ভূমিকা খাটো করে দেখায় তা অপমান এবং আতঙ্কজনক মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আফগানিস্তানে প্রাণ হারানো আমাদের ৪৫৭ জন সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করছি। আমি তাদের সাহসিকতা এবং দেশের জন্য তাদের ত্যাগ কখনও ভুলব না। অনেকেই আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অনেকের জীবন বদলে গেছে। তাই আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে অপমানজনক এবং স্পষ্টতই আতঙ্কজনক বলে মনে করি।’
আফগানিস্তান যুদ্ধ করা ন্যাটোর ডেনিশ সেনা নীলস জেসপারসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের আমেরিকান ভাইদের সঙ্গে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি এবং রক্ত দিয়েছি। তাই এই কথাগুলো শুনে দুঃখ হচ্ছে।’
আফগানিস্তানে ন্যাটোর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সীমা অতিক্রম করেছেন উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করছেন পোল্যান্ডের একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল।
পোল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রোমান পোলকো বলেন, ‘আমরা কঠিন পরিস্থিতিতেও আমেরিকান সৈন্যদের জীবন রক্ষা করতে পিছপা হইনি। প্রায়শই আমাদের নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহযোদ্ধাদের নিরাপদে রাখতে এগিয়ে গেছি। আমরা অনেক মিথ্যা শুনেছি যার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমা চাননি। অনেক বক্তব্যে তার অহংকার প্রকাশ পায়। একবার একটি রেড লাইন অতিক্রম করেছেন। এর জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের মার্কিন-আফগান যুদ্ধে ৩ হাজার ৪৮৬ ন্যাটো সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এরমধ্যে মার্কিন সেনা ছিলেন ২ হাজার ৪শ ৬১ জন। এছাড়া ৪শ ৫৭ সেনা হারিয়েছে যুক্তরাজ্যও। এমনকি গ্রিনল্যান্ডের দখল নিয়ে যেই ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা চরমে পৌঁছেছে, সেই দেশটিও আফগান যুদ্ধে ৪০ জনের বেশি সেনা হারিয়েছে।





