প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন ও নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ফিরেছে স্বাভাবিক নিয়মে। এরমধ্যেই এসেছে পবিত্র রমজান। কিছুটা হলেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই তারাবির নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইফতার সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় ব্যস্ত বাসিন্দারা।
তবে রমজান শুরু হতেই ফের ইসরাইলি বর্বরতার আশঙ্কায় আতঙ্কিত উপত্যকাটির সাধারণ মানুষ। কারণ যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষ হলেও, এখনও মেলেনি দ্বিতীয় ধাপের আভাস।
তেল আবিব বলছে, যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, যদিও এর আগে হামাসের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় তারা। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পুরো রমজান মাস যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যেতে চায় তেল আবিব। কিন্তু শর্ত একটাই, মুক্তি দিতে হবে অবশিষ্ট বন্দিদের। হামাসের কাছে এখনও বন্দি ৫৯ ইসরাইলি।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই গাজায় হামাসের কাছে বন্দি থাকা ইসরাইলিদের জীবিত কিংবা মৃত যে অবস্থায় হোক ফেরত দিতে হবে। আর স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সব বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে হামাসকে।
অন্যদিকে হামাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার আর মিশরের মধ্যস্থতারকারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সম্মতি জানাবে না সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। পাশাপাশি গাজায় নিজেদের সদস্যদের উপস্থিতি রাখতে আগ্রহী হামাস।
এমন অবস্থায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে উপত্যকায় সব ধরনের ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। একে ব্ল্যাকমেইল বলে উল্লেখ করেছে হামাস। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধাপে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনর্বহালসহ বন্দিদের মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে শত শত ইসরাইলি।
বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোন চুক্তি না হলে গাজায় পুনরায় যুদ্ধ শুরুর দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে এই দোদুল্যমান পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমাদের দুষছে হামাস।