গাজাবাসীর জন্য আজকের দিনটি একেবারেই ভিন্ন। প্রায় দেড় বছরের লড়াই সংগ্রামের পর অবশেষে কার্যকর হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি। গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের রাস্তায় সাধারণ মানুষের ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছে হামাস যোদ্ধাদের গাড়ি। অস্ত্র ও পতাকা হাতে উল্লাসে মেতে উঠেন সবাই। ২৩ লাখ গাজাবাসীর মনে নতুন করে আশার সঞ্চার তৈরি করেছে এই যুদ্ধবিরতি।
বন্দিদের নাম প্রকাশের শর্তে জুড়ে দেয়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরে বিলম্ব হয় প্রায় ৩ ঘণ্টা। এই অল্প সময়ের মধ্যেই ১৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। তবে স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১১টায় চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে নতুন করে আর হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
ফিলিস্তিনের পাশাপাশি ইসরাইলের সাধারণ মানুষও যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের আশা এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে চলমান এই যুদ্ধ। আর কোনো প্রাণহানি ঘটবে না, জিম্মিরাও ফিরে আসবেন স্বজনদের কাছে।
এদিকে, ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, যুদ্ধে ইসরাইল তার সব লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা ও হামাসের সক্ষমতাকে ধ্বংস করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেন, ‘সব জিম্মির মুক্তির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল নেতানিয়াহু সরকার। তা বাস্তবায়নেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে সরকার। তবে এজন্য আমাদের অনেক ছাড় দিতে হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু হবে না। যুদ্ধে ইসরাইলের লক্ষ্য পূরণের পরই তা বাস্তবায়ন হবে।’
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জ্বালানি বহনকারী ২০টি ও মানবিক সহায়তার আরও ২০০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সারিবদ্ধভাবে ট্রাকগুলো ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত কেরেম শালোম সীমান্তে অপেক্ষা করছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক প্রবেশ করবে গাজায়।
গাজার উত্তরে জাবালিয়া ও দক্ষিণে রাফা, খান ইউনিস এবং মধ্য গাজার আল সাফতাওয়ি এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৬ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি। চরম খাদ্য সংকটের মুখে ২২ লাখ গাজাবাসী।