গাজা নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক অনেকটা দূরে ইউক্রেনের সুমি শহরের চিত্র এটি। রাশিয়ার সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এ শহর ও আশপাশের অঞ্চল অব্যাহতভাবে শিকার হয়ে আসছে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার। অন্যদিকে রাশিয়ার ক্রাসনোদারে তেলের মজুতে, কুরস্কে রুশ গ্যাস স্টেশনেও হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
হামলা-পালটা হামলার মধ্যেই আংশিক অস্ত্রবিরতির লক্ষ্যে ইউক্রেন-রাশিয়ার সঙ্গে আলাদাভাবে দফায় দফায় বৈঠক করছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের রিয়াদে রোববার ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পর গতকাল (সোমবার, ২৪ মার্চ) রিটজ-কার্লটন হোটেলে রাশিয়ার সাথে ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা চালায় মার্কিন প্রতিনিধি দল। পরবর্তী ধাপে আবারও কিয়েভের সাথে আলোচনার কথা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, ইউক্রেনে অস্ত্রবিরতির পরিসর বাড়ানোর আগে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য কৃষ্ণসাগরে আলাদা সামুদ্রিক অস্ত্রবিরতির চুক্তি বের করে আনার। তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির আওতায় যুদ্ধের মধ্যেই প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ টন শস্য সমুদ্রপথে নিরাপদে রপ্তানি করে ইউক্রেন।
নিজস্ব খাদ্য পণ্য ও সার রপ্তানিতে বিঘ্নের অভিযোগে ২০২৩ সালে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় রাশিয়া। যদিও বর্তমানে কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় দেশগুলোতে শস্যের বাজার ধরতে তেমন কোনো সমস্যাতেও পড়তে হচ্ছে না দেশটিকে।
রাশিয়া ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেন, ‘কৃষ্ণ সাগর উদ্যোগ থেকে শুরু করে এ উদ্যোগ নবায়ন পর্যন্ত সকল ইস্যুতে আলোচনা করছি আমরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন এতে সম্মতি দিয়েছেন। রিয়াদে সফররত আমাদের প্রতিনিধি দলের আলোচ্য সূচিতে বিষয়টি রয়েছে।’
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, শিগগিরই ইউক্রেনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তি নিশ্চিতের আশা করছেন তিনি। আলোচনা চলছে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও মার্কিন মালিকানায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘খুব শিগগিরই খনিজ চুক্তি সই করবো আমরা। এই মুহূর্তে আঞ্চলিক সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলছি। বিশেষ করে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানাও ধীরে ধীরে আলোচনায় আসবে।’
তিন বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের দখলকৃত সব অঞ্চলের মালিকানা যে রাশিয়ার, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সে স্বীকৃতি চান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেয়া রুশ-ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ সের্গেই রাদশেঙ্কোর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এমন তথ্য।