বাধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে মেতেছে জার্মানির রক্ষণশীল দল ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন বা সিডিইউ এর সমর্থকরা। কারণ দেশটির এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ওলাফ শলজের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে হারিয়ে সবার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে দলটি। সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর হতে যাচ্ছেন সিডিইউ'র নেতা ফ্রেডরিখ মার্জ।
জার্মানির সিডিইউর দলের নেতা ফ্রেডরিখ মার্জ বলেন, ‘আজ রাতে শুধু বিজয়োল্লাস হবে। আগামীকাল থেকে আমরা কাজ শুরু করবো। রক্ষণশীল দলের জয়ে সবাইকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের সমর্থন দেয়ার করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইলন মাস্কের প্রভাব ধাপে ধাপে কমাতে কাজ করার প্রত্যাশা জানান ফ্রেডরিখ মার্জ। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জার্মানির অবৈধ অভিবাসীদের নিয়েও বেশ উদ্বিগ্ন তিনি।
এদিকে সবাইকে তাক লাগিয়ে ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিরোধী দলের জায়গা করে নিয়েছে আলিস ইউদেলের কট্টর ডানপন্থী এএফডি। জার্মানির ফেডারেল রাজনীতিতে এতো জনসমর্থন আগে কখনও ছিল না দলটির।
জার্মানির কট্টর ডানপন্থী দল এএফডি নেতা আলিস ইউদেল বলেন, ‘আমরা ঐতিহাসিক জয় পেয়েছি। ফেডারেল পার্লামেন্ট ভোটে আগে কখনও আমাদের অবস্থান এতো শক্তিশালী ছিল না। জার্মানিতে এবার বিরোধী দল অর্থাৎ দ্বিতীয় দলের জায়গা করে নিয়েছি।’
তবে নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হয়েও বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজের ভরাডুবি দেখলো বিশ্ব। মাত্র ১৬ শতাংশ ভোট পেয়ে এবারের নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে তার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি।
জার্মানিতে ওলাফ শলজের পরাজয় ও ফ্রেডরিখ মার্জের জয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে জার্মানদের মধ্যে।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘ওলাফ শলজের দল জনসমর্থনে তলানিতে পৌঁছেছে। এটা খুবই খারাপ হয়েছে। তার দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সামাজিক উন্নয়নের।’
অন্য একজন স্থানীয় বলেন, ‘নির্বাচনের ফল যেমন ভেবেছিলাম তেমনটাই হয়েছে। ফ্রেডরিখ মার্জের দল শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। বিরোধী দল হিসেবে এএফডিও ভালো করেছে। তবে অন্যান্য দলের ভরাডুবি হয়েছে। মনে হচ্ছে কোয়ালিশন সরকার গঠন হতে পারে।’
গত নভেম্বরে ওলাফ শলজের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দলের জোট সরকার ভেঙ্গে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই রোববার আগাম জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করে জার্মানি। এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। অংশ নিয়েছে ছয় কোটি জার্মান।