সম্প্রতি এক বিবৃতি নিয়ে তোলপার পাকিস্তানের গণমাধ্যম। ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’ নামে প্রকাশ করা এ বিবৃতিতে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় এ প্রদেশটি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে আর তারা তাদের অঞ্চলের ৮৫ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হচ্ছে, একটি জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, নতুন মুদ্রা ও স্বাধীন প্রশাসনিক পদ্ধতিও চালু করেছে বেলুচিস্তান। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের সোনা, তামার খানি, গ্যাসক্ষেত্র ও কয়লা খনিরও নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ বিবৃতির সত্যতা এখনো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করেনি।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বেলুচিস্তান প্রদেশটি দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ। যদিও দেশের মাত্র ৬ শতাংশ মানুষের বাস এখানে। ১৯৪৮ সালে কালাত রাজ্যকে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বেলুচিস্তানকে নিজেদের অংশ করে নেয় পাকিস্তান। এরপর থেকেই অঞ্চলটি বিদ্রোহে জর্জরিত। বালুচদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক নিপীড়নের শিকার। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এর লভ্যাংশ চলে যায় প্রদেশের বাইরে।
এখন প্রশ্ন থেকে ওঠে, পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আদায় কতটা বাস্তবসম্মত। বিবৃতিটি সামনে আসার পর কোনো পরাশক্তি বা প্রতিবেশী দেশ এখন পর্যন্ত বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবির প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা স্বীকৃতি দেয়নি। যেটি একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার লড়াইকে আরও বেশি বেগবান করে। পাশাপাশি, বেলুচিস্তানে বেলুচ ছাড়াও, পশতুন ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও বসবাস করে। যাদের একটি বড় অংশ পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে নয়। এ পুরো বিষয়টিকে ভারতের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বেলুচদের সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে গেলে চটে যাবে আরেক পরাশক্তি চীন।
তবে, বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি শেহবাজ শরীফ প্রশাসনের জন্য দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বিশাল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বার্তা দেয়। বেলুচের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতি চাওয়ার বিষয়টিও ইসলামাবাদকে কূটনৈতিক চাপে ফেলেছে।
অর্থাৎ, এ বিবৃতির পর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ও আসিম মুনিরের সেনাবাহিনীর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত আর আরব সাগরের বিশাল উপকূলরেখার কারণে বেলুচিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। সঙ্গে যোগ হয়েছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের মতো সংগঠনের সঙ্গে আফগান সীমান্তে পাক সেনাদের প্রতিনিয়ত বিরোধ। ফলে বেলুচদের স্বাধীনতার আন্দোলন তীব্রতর হলে বিপদেই পড়বেন শেহবাজ শরীফ।





