বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আরও ঘোষণার জন্য অপেক্ষায় থাকুন। কারণ কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ইতিহাসে যা দেখা যায়নি, আমরা তেমন পদক্ষেপই নিতে যাচ্ছি।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি বন্দরে চলমান নৌ-অবরোধের পাশাপাশি এই পদক্ষেপ ‘ওয়ান-টু পাঞ্চের’ অংশ।
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। দেশটির শিল্প সক্ষমতার বেশির ভাগ ধ্বংস হয়েছে এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অনেকটাই কমে এসেছে। তবে বহু দফা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করেও তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নমনীয় হয়নি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি।
প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের ঘাটতির কারণে সামরিক অভিযান বিস্তৃত করতে সতর্ক অবস্থানে থাকা ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ওপর নতুন করে জোর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প বার্তা সংস্থা ‘অ্যাক্সিওসকে’ বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘নিম্ন-প্রোফাইলে’ (লো-কিয়িং) বিষয়টি সামাল দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ইরানকে পর্যবেক্ষণ করছি—তাদের বিশাল মূল্যস্ফীতি এবং তাদের হাতে যে কোনো অর্থ নেই সেই সব দিকে।’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা যখন অচলাবস্থায় রয়েছে, ইরান তখন বিদেশে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার জন্য তাদের সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো অগ্রগতির লক্ষণ নেই। উভয় পক্ষই এই জলপথের নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে এবং এমন ছাড় দাবি করছে, যা মেনে নেয়ার সম্ভাবনা কম। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার আগের সেশনে ২ দশমিক ২ শতাংশ কমার পর ব্রেন্টের ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে।
সপ্তাহান্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি নৌপথ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘অনেক কাছাকাছি’ চলে এসেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এই দুই দেশ এখনো কোনো চুক্তির ঘোষণা দেয়নি। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও তা পূর্ণ পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয় থেকে আলাদা থাকবে।





