এই পরীক্ষা নতুন ‘আফ্রিকা মাল্টিডোমেইন ট্রেনিং অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টেশন সেন্টারের’ (এএমটিইসি) কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেছে। ওয়াশিংটন ও রাবাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই নতুন কেন্দ্রটি উন্নত যুদ্ধ প্রযুক্তির একটি স্থায়ী ‘সামরিক গবেষণাগার’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরীক্ষার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও মরক্কোর সেনারা কোম্পানির প্রকৌশলীদের সঙ্গে মিলে সাহারা মরুভূমির বালিয়াড়িতে একটি অস্থায়ী উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বসান। সেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া এবং রিয়েল-টাইম যোগাযোগ ও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
ইসরাইলে কার্যক্রম চালানো মার্কিন বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা মাইকেল কফম্যান ২০২৪ সালে কোভেন্যান্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ইসরাইল ও জার্মানিতে এই কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি অস্বাভাবিকভাবে কম প্রচার পেয়ে এসেছে এবং তাদের কোনো অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও নেই। তারপরও প্রতিষ্ঠানটি ফাউন্ডার্স ফান্ড ও অ্যান্ড্রিসন হরোউইটজসহ সিলিকন ভ্যালির বড় বড় ফান্ড থেকে কয়েক শ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে।
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানির ঢেউয়ের অংশ হিসেবে কোভেন্যান্ট তুলনামূলক কম খরচে উন্নত যুদ্ধ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন টমাহকের মতো ভারী ও ব্যয়বহুল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে দূরপাল্লার সক্ষমতা ও সুনির্দিষ্ট হামলার ক্ষমতা বজায় রেখে অপেক্ষাকৃত সস্তা ও সহজে ব্যাপক উৎপাদনযোগ্য একটি বিকল্প হিসেবে ‘অ্যানথেম’ প্রতিষ্ঠানটির ফ্ল্যাগশিপ পণ্য হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
মরক্কোয় এই উৎক্ষেপণ সম্ভব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সচিবের কার্যালয়ের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে। এই উদ্যোগের আওতায় বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক পরীক্ষাস্থলে দ্রুত প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এই উদ্যোগের সুযোগ প্রথমবারের মতো কাজে লাগিয়েছে কোভেন্যান্ট। ২০২৭ সালের শুরুতেই ক্ষেপণাস্ত্রটির ধারাবাহিক উৎপাদন শুরুর পথে এই পরীক্ষাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।





