ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট স্বীকৃত বেইজিংয়ের টেম্পল অফ হ্যাভেন। ৬০০ বছরের পুরনো এই স্থাপত্যের কদর এতখানিই যে চীন সফরে এসে চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশংসা করেছেন এর কারুশৈলীর।
একসময় এই টেম্পলেই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতো, দেশের উন্নতি, শান্তি এবং ভালো ফসলের জন্য এখানে প্রার্থনা করতে আসতেন স্থানীয়রা।
বেড়াতে যাওয়ার জায়গা হিসেবে চীনের তেমন প্রচার না থাকলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবছর দেশটিতে বহু পর্যটক সমাগম হয়, যাদের আকর্ষণের কেন্দ্রে চীনের পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস ও সংস্কৃতি। টেম্পল অফ হ্যাভেনে বেড়াতে আসা বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও জানিয়েছেন তাদের আগ্রহের কথা।
পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মন্দিরটির কারুকাজ খুবই সুন্দর। এখানকার স্থানীয় পোশাক আমার ভীষণ পছন্দের। এই পোশাক পরে অনেক ছবি তুলেছি।’
আরও পড়ুন:
অন্য একজন বলেন, ‘ইউরোপ থেকে এসেছি। আমাদের জন্য এই মন্দির ভ্রমণ একেবারেই আলাদা এক অভিজ্ঞতা। নকশাগুলোও একেবারেই আলাদা।’
ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরতে ভীষণ ভালোবাসি। এই প্রথম চীনে এসেছি। চীনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার- সবকিছুই খুব ভালো লাগছে।’
পর্যটকদের যেমন প্রিয় গন্তব্য চীন, তেমনি এই খাত থেকে বেইজিং-এর আয়ও ঈর্ষণীয়। ২০২৫ সালে স্থানীয় পর্যটকদের থেকে রেকর্ড ৬.৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা ৮৭০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে চীন। আর ভিনদেশীদের থেকে এসেছে ১২০ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন:
চীনের মোট জিডিপিতে পর্যটন খাতের সরাসরি অবদান প্রায় ৪.৩৫% থেকে ৫%। হোটেল-পরিবহন ও খাবার থেকে আয় যোগ করলে দেখা যায় মোট চীনের জিডিপির ১১ শতাংশের বেশি আসে পর্যটন থেকে।
২০২৬ সালের মধ্যে পর্যটন অর্থনীতিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ হওয়ার পথে চীন, যেখানে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণকারীরাই এই আয়ের মূল উৎস। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি, নিজস্ব স্থাপত্য নিদর্শনগুলো যত্ন করে রক্ষণাবেক্ষণ করায় এই খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে চীন।




