অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের কারাখানা গড়ে তোলার অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঠিক একদিন পর কলকাতায় নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশের সময় একই ইস্যুতে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।
অমিত শাহ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে ভরসা দিতে চাই, একবার এখানে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে এক এক করে খুঁজে খুঁজে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলার বাইরে বের করে দেবো। আর দেশকে সুরক্ষিত রাখবো।’
এদিন নির্বাচনি ইশতেহারে নারীদের জন্য মাসিক তিন হাজার রুপি, মহার্ঘ ভাতা চালুসহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন অমিত শাহ।
কেন্দ্রের শাসক দলের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়, এটা মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা।
আরও পড়ুন:
নির্বাচনের আগে কেন ভোটার তালিকায় সংশোধন আনা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কেন্দ্রের। এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে অমিত শাহর পদত্যাগ করা উচিত বলেও জানান মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী বর্ডার সামলায় কে? কেন্দ্রীয় সরকার। সিআইএসএফ চালায় কে? কেন্দ্রীয় সরকার। যদি কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢোকে তাহলে অমিত শাহর পদত্যাগ করা উচিত। আমাদের নয়, কারণ আমরা ঢোকায়নি। আমাদের ঢোকাবার ক্ষমতা নেই।’
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগের বিপরীতে দেড় বছর ধরে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস জানতে চেয়েছেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যদি বাংলাদেশ পরিচালিত করে তাহলে দিল্লিতে শেখ হাসিনা কী করছে? উনার জবাব আছে। দেড় বছর ধরে শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির সরকার কী কারণে আশ্রয় দিয়েছে? কোন শিল্পপতিকে বাঁচানোর জন্য। শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী? অমিত শাহ জবাব দিতে পারবেন?’
অভিষেকের অভিযোগ, জাতীয় সুরক্ষার কথা বললেও বিজেপির শাসনামলে কাশ্মীরের পেহেলগাম ও দিল্লির প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের সাক্ষী হয়েছে দেশ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে যদি অনুপ্রবেশ আপনারা আটকাতেই চান, তাহলে কাশ্মীরে পেহেলগামে দায়িত্বে কে ছিল? বিজেপি সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলো কেন? দিল্লি পুলিশ কার দখলে? কার নিয়ন্ত্রণে?’
এছাড়া বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। অভিষেকের এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।





