পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: মোদির সভা দিয়েই প্রচারণায় ঝড় তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি | ছবি: সংগৃহীত
1

আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন। সেই উত্তরবঙ্গ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ৫ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের তফশিল প্রকাশ করার পর এই প্রথম নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মূলত প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েই রাজ্যজুড়ে এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন ও দ্বিস্তরীয় প্রচারণার কাজ শুরু করতে চায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। প্রথম দফার নির্বাচন শুরু হতে এখনো বাকি তিন সপ্তাহ ২৩ দিন। ফলে নির্বাচনে প্রচারণায় কোনোরকম খামতি রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির।

মোদির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, দলের সভাপতি নীতিন নবীন, সাবেক সভাপতি জয়প্রকাশ নাড্ডা, কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তো প্রচারণায় থাকবেনই। সেই সঙ্গে তারকা প্রচারকদেরও প্রচারণার কাজে যুক্ত করে ভোটারদের কাছে টানার প্রচেষ্টা হবে।

পাশাপাশি রাজ্যটির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতারাও অন্য প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন:

গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি কেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের সঙ্গে নিজেদের সংযোগকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা পরিকল্পনা নিয়েছে– যার মধ্যে রয়েছে র‍্যালি, রোড-শো, জনসভা এবং ডোর-টু-ডোর ভিজিট।

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনি প্রচারণার অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। সূত্রমতে কমপক্ষে ১৪টি কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনসভা ও রোড-শোর মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চল- উভয়ক্ষেত্রেই নিজেদের সমর্থন ভিত্তি শক্ত করার পাশাপাশি সেখানে দলের প্রভাব বিস্তার করতে চায় বিজেপি শিবির।

রোড-শো ও জনসভা মিলিয়ে মোট আটটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনি কৌশলের অন্যতম প্রধান স্থপতি অমিত শাহ। ফলে রাজ্যটিতে দলের সংগঠনকে সচল করা ও বুথ পর্যায়ে দলের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

যদিও বৃহস্পতিবারই কলকাতার হাজরা মোড়ে একটি জনসভায় উপস্থিত ছিলেন শাহ এবং সেখান থেকেই তৃণমূলকে নিশানা করে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দেন। জনসভা থেকে অমিত শাহ ঘোষণা দেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ১৫ দিন আমি এখানেই থাকবো। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ নেবো।’

তার দাবি, ‘বিজেপি একের পর এক আসন জিতবে। ১৭০ এর গণ্ডি পেরোলেই পরিবর্তন নিশ্চিত। তাছাড়া শুভেন্দু অধিকারী কেবলমাত্র নন্দীগ্রামেই নয়, মমতার ঘরে ঢুকেও (ভবানীপুর) তাকে হারাতে পারে।’

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন সাতটি জনসভা ও রোড শো- এ অংশ নিতে পারেন। দলের সাবেক জাতীয় সভাপতি জয়প্রকাশ নাড্ডা ছয়টি জনসভায় অংশ নিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সর্বভারতীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, যেসব বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি নির্বাচনি সাফল্য পেতে চাইছে, মূলত সেসব নির্বাচনি এলাকাকে লক্ষ্য করেই বিজেপির এই নির্বাচনি কর্মসূচিগুলো আয়োজন করা হবে।

আরও পড়ুন:

হিন্দুত্ববাদী ও স্পষ্ট বক্তা হিসাবে পরিচিত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তারকা খ্যাতিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যে প্রচারের শেষ দিন, অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে অনুমান।

বাংলায় মিঠুনের জনপ্রিয়তা বিজেপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে শহুরে এবং আধা-শহুরে নির্বাচনি কেন্দ্রগুলিতে। মূলত সেই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগাতে চায় গেরুয়া শিবির।

বিজেপি সূত্রে খবর, নির্বাচনি প্রচারণা পরিকল্পনাটি এমন সযত্নে সাজানো হয়েছে যে, যাতে যেসব কেন্দ্রে বিজেপি বরাবরই দুর্বল, সেখানেও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বিজেপি। আর সেলক্ষ্যে জনসভা ছাড়াও, অঞ্চলভিত্তিক মনোযোগ ও কর্মী সমাবেশের উপর জোর দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক বছরে এই উত্তরবঙ্গ বিজেপি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৩০ আসনে জয়লাভ করেছিল তারা। এর মধ্যে কোচবিহার জেলায় নয়টি আসনের মধ্যে সাতটিতে জয় পায়। যদিও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনটিতে হেরে যায় বিজেপি। তবে উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা কেন্দ্রের ছয়টিতে জয়ী হয়েছিল তারা।

তবে নির্বাচনি প্রচারণার নিরিখে বিজেপি থেকে কয়েক কদম এগিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যে উত্তরবঙ্গ থেকে ভোট গ্রহণ শুরু, গত এক সপ্তাহ আগেই সেখান থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন দলের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা করে চলেছেন মমতার ভাতিজা ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও।

এছাড়াও প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে নেমেছেন দীপক অধিকারী (দেব), সৌমি তৃষা কুন্ডু’র মতো টলিউডের বেশ কিছু শিল্পীও।

এসএস