স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় উপ-হাইকমিশনের নৈশভোজ আয়োজন

কলকাতাস্থ উপ হাইকমিশনের তরফে নৈশভোজ অনুষ্ঠান
কলকাতাস্থ উপ হাইকমিশনের তরফে নৈশভোজ অনুষ্ঠান | ছবি: এখন টিভি
0

২৬ মার্চ, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের তরফে নৈশভোজ (রিসেপশন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ) কলকাতার পাঁচ তারকা হোটেল ‘আইটিসি সোনার বাংলা’য় এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যাকালীন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মিশনের সব কর্মকর্তা, তাদের পরিবারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, সুশীল সমাজ, শিক্ষাঙ্গন, ব্যবসা, সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের বিশিষ্টজনরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বক্তব্য রাখেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপহাইকমিশনার মহম্মদ আশরাফুল সিকদার। পরে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুন কুমার রায়।

ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার মহম্মদ আশরাফুল সিকদার তার বক্তৃতায় বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। যা জাতিকে একত্রিত করে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দিকনির্দেশনা দেয়। বাংলাদেশের জনগণের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।’

আরও পড়ুন:

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগিতারও উল্লেখ করেন।

এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ ঘটে।’

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বার্থকে সম্মুখে রেখে প্রতিবেশি দেশ ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে সাফল্য লাভ করেন। তার এই পররাষ্ট্র নীতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাফল্যের সঙ্গে অনুসরণ করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকসই উন্নয়নের লক্ষে শহিদ জিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে অবিচল রয়েছেন।’

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করে মহম্মদ আশরাফুল সিকদার বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ এসব উদ্যোগের ফলে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করা শুরু করেছে, প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে “সাধারণ মানুষের প্রধানমন্ত্রী”' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।’

এদিনের অনুষ্ঠান হলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগেুলোর আলোকচিত্র কয়েকটি ফটোবোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

আরও পড়ুন:

উল্লেখ্য, বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের আলোকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সমৃদ্ধির স্বার্থে ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী, পারস্পরিক সম্মান ও উন্নয়নের অংশীদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পত্রের অংশবিশেষ এদিন পাঠ করে শোনান ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশ ও ভারতের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজ্যটির অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুন কুমার রায়, স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগের উল্লেখ করেন ও দুই দেশের বন্ধুপ্রতীম সম্পর্কের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসএস