তেলের রিজার্ভে বিশ্ব বাজারে ‘বড় খেলোয়াড়’ ইরান

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: রয়টার্স
0

বিশ্বের জ্বালানি মানচিত্রে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এ দেশের জালানি তেলের প্রমাণিত মজুদ বিশ্বের শীর্ষ স্তরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক এনার্জি পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালের হিসেব অনুযায়ী ইরানের তেলের রিজার্ভ প্রায় ২০৮–২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল হিসেবে গণ্য হয়। এটি বিশ্বজুড়ে মোট মজুদের প্রায় ১২ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মোট সংরক্ষণের প্রায় এক চতুর্থাংশ।

বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি বিনিয়োগে সীমাবদ্ধতার পরও ইরান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এ রিজার্ভের পরিমাণ শুধু ইরানের জ্বালানি নিরাপত্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক এনার্জি সরবরাহের বাজারেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তেলের মজুদ ও রপ্তানির ওপর ভিত্তি করে অনেক দেশই তাদের অর্থনীতি ও কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে, এবং ইরান সে খেলায় নিজেকে একটি প্রভাবশালী পক্ষ হিসেবে বিবেচিত করে তোলে।

বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদী এনার্জিভিত্তিক নিরাপত্তায় ইরানের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তেল রিজার্ভের পরিমাণ, দেশগুলোর চাহিদা, উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। তেলের দাম, সরবরাহ শৃঙ্খলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা আলোচনা– সব ক্ষেত্রেই ইরানের অবস্থান ব্যতিক্রমী গুরুত্ব ধরে রেখেছে। 

আরও পড়ুন:

ইরানে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ তেল সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে আশঙ্কা তৈরি করেছে। 

বিশ্লেষকরা ধারণা করছে এক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি হরমুজ প্রণালি, যা মধ্যপ্রাচ্যকে বিশ্ব বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে। মেরিটাইম অ্যানালিটিক্স অনুযায়ী, প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল কমেছে, অনেক তেলবাহী ট্যাংকার উল্টো পথে গেছে বা অপেক্ষা করছে। 

ইরানি তেল উৎপাদন খরচ মাত্র ১০ ডলার ব্যারেল, যা বিশ্ব বাজারের উচ্চ দামের সঙ্গে মিলে দেশে বড় অর্থনৈতিক মুনাফা তৈরি করে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের তেল অবকাঠামোও ঝুঁকিতে, কারণ ইরানের মধ্যদূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে আঘাত করতে পারে। এ পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রণালিতে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা মাত্রই বিমার প্রিমিয়াম বাড়াবে এবং জাহাজ চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করবে। সম্ভাব্য দাম ব্যারেলের ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালের রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে সর্বোচ্চ হতে পারে।

এএম