খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন (Successor election) শুধু ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রশ্ন নয়, এটি ইরানের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির (Military and Foreign Policy) ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে। তবে এই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া এবং বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় নীতি-আইন মেনে করা হয়ে থাকে। আর সেজন্য খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা (Interim Supreme Leader) হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
নেতৃত্ব পরিষদের ঘোষণা (Announcement of Leadership Council)
আল জাজিরার (Al Jazeera) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্ডিয়ান কাউন্সিলের (Guardian Council) অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদে জুরিস্ট বা আইনজ্ঞ পদে আলিরেজা আরাফি নির্বাচিত হয়েছেন। এক্সপিডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের (Expediency Discernment Council) মুখপাত্র মোহসেন দেহনাভি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আইনবিদকে সদস্য করে একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ (Temporary Leadership Council) গঠন করা হয়। জানা গেছে, ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (Assembly of Experts)। আলিরেজা আরাফি অস্থায়ী লিডারশিপ কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইয়ের (Gholam-Hossein Mohseni-Ejei) সঙ্গে। আইন অনুযায়ী, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader) নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করবে।
আরও পড়ুন:
কে এই আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি? (Who is Ayatollah Alireza Arafi)
আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় আলেম (Cleric)
তিনি ইরানের একজন শীর্ষ পর্যায়ের শিয়া আলেম (Shiite Cleric)। তিনি ইরানের বিখ্যাত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র কোম (Qom)-এর সেমিনারির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য (Member of Guardian Council)
তিনি ১২ সদস্যের শক্তিশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিল-এর একজন ফকিহ বা আইনবিদ (Jurist) সদস্য। এই কাউন্সিলটি ইরানে নির্বাচন তদারকি করে এবং পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনগুলো ইসলামি শররিয়াহর সাথে সংগতিপূর্ণ কি না, তা যাচাই করে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য (Member of Assembly of Experts)
তিনি অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস বা বিশেষজ্ঞ পরিষদেরও সদস্য। এই পরিষদটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে (Supreme Leader) নির্বাচন করা, তদারকি করা এবং প্রয়োজনবোধে পদচ্যুত করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখে।
আরও পড়ুন:
আল-মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রধান
তিনি আন্তর্জাতিক এই বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর (Chancellor) ছিলেন, যার শাখা বিশ্বের অনেক দেশে রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ইরানের বাইরেও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক অবস্থান (Political Stance)
আরাফিকে সাধারণত একজন কট্টরপন্থি (Hardliner) এবং বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর অত্যন্ত অনুগত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি তাকে যে অস্থায়ী কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা এটাই নির্দেশ করে যে বর্তমান ইরানের রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে (Political Crisis) তিনি শাসকগোষ্ঠীর একজন অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি।





