২০২২ সালের পর সবচেয়ে সহিংস আন্দোলন চলমান ইরানে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ, রূপ নিয়েছে ভয়াবহ সহিংস সরকারবিরোধী অন্দোলনে। সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পরেছে। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা রোধে সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। বৃহস্পতিবার থেকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে ইরানের।
প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে ইরানের এক মানবাধিকার সংস্থা। আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায় রাতভর সহিংসতায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এদিকে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে, বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পিছু হটবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র কয়েক লক্ষ সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা ধ্বংসে লিপ্ত, তাদের সামনে ইরান পিছু হটবে না। বিদেশি শক্তির সেবাকারী ভাড়াটেদেরও ইরান সহ্য করবে না।’
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের মদদে আন্দোলন করছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্যে ভাঙচুর করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্পকে তার নিজের দেশের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেন খামেনি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘গত রাতে তেহরান এবং আরও কিছু জায়গায়, একদল ভাঙচুরকারী এসে তাদের নিজস্ব দেশের ভবন ধ্বংস করে, কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য। যদি পারেন, তাহলে তাকে নিজের দেশ চালাতে দিন। তার নিজের দেশেই নানা ধরণের ঘটনা ঘটছে।’
এদিকে ট্রুথ সোস্যাল পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে প্রস্তুত বলেও হুমকি দেন তিনি।
ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ খুবই উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার সবার রয়েছে জানান তিনি।
স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যে প্রাণহানি দেখেছি তাতে আমরা খুবই মর্মাহত। বিশ্বের যেকোনো স্থানের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। সরকারের উচিত সেই অধিকার রক্ষা এবং সম্মান করা।’
নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে সাড়া দিয়ে শুক্রবার রাতে ইরানের রাস্তায় নামে লাখো বিক্ষোভকারী। এর আগে রেজা পাহলভি দেশব্যাপী বিক্ষোভের প্রশংসা করেন এবং আরও ইরানিদের সমন্বিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।




