মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে আরেক প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাও। ধারণা করা হয়, কঙ্গো থেকেই এসেছে ছোঁয়াচে এ রোগ। এরইমধ্যে এ রোগে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। পিছিয়ে নেই আক্রান্তের সংখ্যাও। এদিকে কঙ্গোর দক্ষিণের কিভু প্রদেশে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে খবর পাওয়া গেছে।
এরইমধ্যে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে সন্দেহ করা এক ব্যক্তির দাফন নিয়ে বিবাদের জেরে কঙ্গোর উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রুয়ামপারা শহরে উত্তেজিত জনতা একটি হাসপাতালে জোর করে ঢুকে পড়ে। এরপর চিকিৎসা নেয়ার তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ জনতাদের লক্ষ্য করে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা আমার ছেলেকে কবর দিতে এসেছিলাম, আর তখনই দেখি দলে দলে কিছু লোক এলি নামের একজনের মৃতদেহ চাইছে। ওরা পাথর ছুঁড়তে শুরু করল আর তাঁবুগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিল,আর আমার ছেলের পোড়া দেহটা সেখানেই পড়ে রইলো।’
আরও পড়ুন:
তবে কঙ্গোর পূবাঞ্চলীয় বুনিয়া শহরে ইবোলা নিয়ে গুজব এবং ভুল তথ্যের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ভাইরাসটি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য বিনিময় না হওয়াকে দুষছেন তারা।
এদিকে ইবোলা সংক্রমণের কারণে সীমান্তবর্তী ফেরি, আন্তঃসীমান্ত বাস ও বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে উগান্ডা। অবশ্য দু’দেশের মধ্যকার পণ্য ও মালামাল চলাচলে অনুমতি বহাল আছে।
উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ডায়ানা অ্যাটওয়াইন বলেন, ‘সংক্রমণের কেন্দ্রস্থলগুলোর কাছাকাছি উগান্ডার অবস্থান। তবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বাণিজ্যিক চলাচল ও সরাসরি ফ্লাইটসহ শক্তিশালী আন্তঃসীমান্ত সংযোগের কারণে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে।’
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং প্রাদুর্ভাবটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ ও আইসোলেন তাঁবু স্থাপন করেছে।




